ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সাধারণ শিক্ষার্থীদের কদরও বাড়লো ২৮ বছর পর

০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪৩ AM

জাতীয় রাজনীতির অনেক অর্জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ছাত্র আন্দোলন, অধিকার আদায় কিংবা অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো- সবই হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বলার জায়গা নেই। নেই কোনো প্ল্যাটফর্মও। আর এ কারণেই সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাগ্য বদল হয় না।

এবার সম্ভবত হবে। কারণ, ডাকসু নিবার্চনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক ছাত্র নেতারা নানাভাবে সাধারণ ছাত্রদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ক’দিন আগেও যে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে গেস্টরুমে ডেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের ওপর রাখার অভিযোগ ছিল, তারাই এখন ছুটে যাচ্ছেন ছাত্রদের রুমে রুমে। সবমিলিয়ে বলা যায়, প্রায় তিন দশক পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের কাযক্রম শুরুর পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব বেড়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিয়মিত ডাকসু নিবার্চন হলে সবাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দিতে বাধ্য হবে। তথ্যমতে, গত ২৮বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ ধারার রাজনীতি চলে আসছে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের ছাত্র সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্থা করে থাকে। গেস্টরুম-প্রোগ্রামের নামেও চলে বিভিন্ন ধরনের উৎপীড়ন। দলীয় প্রোগ্রামে না যাওয়ার কারণে গেস্টরুমে মারধর, অপমান-অপদস্ত করা অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কথায় কথায় হল থেকে বের করে দেয়াটাও কোনো ব্যাপারই নয়!

মূলত রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলো কোনো স্তরেই সাধারণ ছাত্রদের কাছে দায়বদ্ধ না থাকার কারণে এমন নোংরা একটি সংস্কৃতি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে শিকড় গেড়েছিল বলেই মনে করেন সবাই। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ডাকসু নিবার্চনের ঘোষণা আসায় এখন সেই অবহেলিত সাধারণ ছাত্ররাই হয়ে উঠেছেন তুরুপের তাস। তাদের ভোটেই জিততে হবে প্রতাপশালী ছাত্র নেতাদের। আর এ কারণে বিগত তিন দশকে সবচেয়ে অবহেলিত সাধারণ ছাত্ররাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন।

ডাকসু নিবার্চনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই ছাত্র নেতারা নানাভাবে সাধারণ ছাত্রদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের নেতারা এখন গেস্টরুমে ডেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের উপর রাখার বদলে নিজেরাই ছুটে যাচ্ছেন ছাত্রদের রুমে রুমে। ব্যক্তিগতভাবে কার কি সমস্যা তা জানতে চাচ্ছেন। নিজে নিবার্চনে প্রার্থীর হচ্ছেন জানিয়ে নিবাির্চত হলে সব সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি রাজনীতি হয় সিট বাণিজ্য নিয়ে। সিট স্বল্পতা যে ক্ষমতাসীনদের প্রধান অস্ত্র, সেই সিট সঙ্কট নিয়েও দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয়ভাবে যেসব প্রতিশ্রুতি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন ক্যাম্পাসে টাঙিয়েছেন সেখানে পযার্প্ত হল নিমাের্ণর দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনটি। অথচ বিগত তিন দশক ধরেই এই হল সঙ্কটকে জিম্মি করে ঘুরছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্রদের ব্যবহার করে রাজনীতির চাবিকাঠি। বিগত ১০ বছরে এ বিষয়ে ছাত্রলীগকে একটা টু শব্দ করতে শোনা না গেলেও বিষয়টিতে এখন তারা ভীষণ সরব।

আবার বিরোধী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ক্যাম্পাসে না থাকলেও বাইরে থেকে নানাভাবেই যোগাযোগ করছেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। তারাও দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে হল সঙ্কটের বিষয়ে ছাত্রলীগের মতোই তারাও দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির বুলি। অথচ বিগত প্রায় তিন দশকের পুরো সময়জুড়েই এ ছাত্র সংগঠন দুটি ক্যাম্পাস শাসন করেছে। সে সময় সিট সঙ্কট নিয়ে চুপ থাকা সংগঠন দুটির হঠাৎ অলৌকিক বাক বদলে অনেকেই অবাক হলেও ছাত্র সংসদ নিবার্চন হলে তাদের এ সিট বাণিজ্যের সাম্রাজ্য যে আর রক্ষা করা যাবে না সে বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে একটি ধারণা পেয়েছেন। আর এ কারণে যেকোনো মূল্যে ডাকসু নিবার্চন চাইছেন সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরাও।

বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো সংখ্যায় কম হলেও তারা নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পিছিয়ে নেই কোটা সংস্কার আন্দোলন করে দেশজুড়ে সাড়া ফেলা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদও। প্রত্যেকেই স্ব স্ব জায়গা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে রোকেয়া হলের একজন শিক্ষার্থী তমালিকা তাহা বলেন, ‘আমি তিন বছর ধরে হলে আছি। এ সময়ে আমাদের রুমে কোনো পলিটিক্যাল আপু কখনো খোঁজ নিতে এসেছেন; এটা মনে করতে পারি না। কিন্তু বিগত এক সপ্তাহে তিনজন আপু আমার রুমে এসেছেন। বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইছেন। কোনো সমস্যা আছে কিনা, থাকলে যেন আপুকে ফোন দিয়ে জানাই আরও কত কি। আমাদের রুমের সবার ফোন নম্বর নিজ ফোনে সেভ করে নিয়েছেন। নিজেদের নাম্বারও আমাদের ফোনে সেভ করে দিয়ে গেছেন। এ থেকে বুঝতে পারছি ডাকসু নিবার্চনের ঘোষণা আমাদের কদর কতটা বাড়িয়েছে।’

বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থীর মুহামুদুন্নবী বলেন, ‘আগে আমাদের গেস্টরুমে গিয়ে কে কয় ঘণ্টা প্রোগ্রাম করেছি তার হিসেব দিতে হতো। এখন সেভাবে গেস্টরুম হচ্ছে না। বরং বড় ভাইয়েরা আমাদের রুমে আসছে। অনেক ভালো ভালো প্রস্তাব দিয়ে গেছে। জিততে পারলে আমাদের কাউকে আর গণরুমে থাকতে হবে না, হল বানানোর জন্য প্রশাসনকে বাধ্য করবেন, আমাদের যাদের আথির্ক অবস্থা খারাপ তাদের জন্য টিউশনির ব্যবস্থা করবেন। আরো অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আমারতো মনে হচ্ছে ডাকসু নিবার্চন নিয়মিত হলে প্রথম দুই বছর গণরুমে যে কষ্ট করেছি তা হয়তো করতে হতো না।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট সোচ্চার হয়েছেন। গত কয়েক দিনে সাধারণ ছাত্রদের পক্ষে তার জোরালো বক্তব্য এরই মধ্যে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীর দৃষ্টি আকষর্ণ করেছে। তার ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে হল সঙ্কট, লাইব্রেরিতে সিট সঙ্কট, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত মাল্টিমিডিয়াসহ শিক্ষা উপকরণ না থাকার বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করছেন তিনি। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এসব ভিডিও ব্যাপকভাবে শেয়ার করছে নিজ নিজ ফেসবুক ওয়ালে।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল সব শ্রেণির ছাত্রদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই আমাদের উপস্থিতিকে ভয় পায় ক্ষমতাসীনরা। তাই তারা হামলা মামলা করে আমাদেরকে সাধারণ ছাত্রদের থেকে দূরে রাখতে চায়। কিন্তু আমরা সবসময়ই সাধারণ ছাত্রদের পক্ষে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।’

বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের জন্মই হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে। স্বাধীনতার পর কোনো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীর কোনো দাবি পূরণে রাস্তায় নেমেছে বা আদায় করে দেখিয়েছে এমন নজির নেই। তারা সবসময় তাদের দলের নীতি আদর্শ সাধারণ ছাত্রদের উপর চাপিয়ে দিতেই তৎপর ছিল। কিন্তু আমরা কোটা সংস্কার, ঢাবির ‘ঘ’ অনুষদে প্রশ্ন ফাঁসের পর সে ফল বাতিল করে নতুন পরীক্ষা নিতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাধ্য করে দেখিয়েছি কারা আসলে ছাত্রদের পক্ষে।’

আর্জেন্টিনার ম্যাচের নতুন সূচিতে পরিবর্তন
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
এনসিপির প্রবাসী সংকট ব্যবস্থাপনা সেল গঠন
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
আরব দেশগুলোর কাছে ইরান যুদ্ধের খরচ চাইবেন ট্রাম্প 
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
এইচএসসির ফরম ফিলাপ করতে না দেওয়ায় ২৪ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে এমআইইউ-সিপিএএ’র যৌথ সেমিনার অনু…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিন ও অনলাইন ক্লাসসহ ৮ প…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence