গ্রাফিক্স ডিজাইনার স্বামী ও নার্স স্ত্রীর অভিনব করোনা টেস্ট ল্যাব

২৪ জুন ২০২০, ১০:২৪ AM
দম্পতি হুমায়ুন কবির ও তানজিনা পাটোয়ারী

দম্পতি হুমায়ুন কবির ও তানজিনা পাটোয়ারী © সংগৃহীত

নেই করোনা পরীক্ষার বৈধ সনদ, নেই স্যাম্পল পরীক্ষার ল্যাবও, তবুও স্বামী-স্ত্রী ঘরে বসে অনলাইনে দুটি সাইট খুলে হটলাইনে নম্বর দিয়ে পরে এরই আদলে করোনা উপসর্গ আছে এমন রোগীদের বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে তা কোথাও ফেলে দিতেন। এরই মধ্যে বাসায় বসে হুবহু সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো করোনা সার্টিফিকেট বানিয়ে তাতে ইচ্ছে মতো পজিটিভ- নেগেটিভ করে রোগীকে মেইলে পাঠাতেন।

এদিকে আবার তার এমন মনগড়া রিপোর্টে নিতেন জনপ্রতি ৫-৮ হাজার টাকা। এখন অবধি ৪২ জনকে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট দেয়া এমন সব প্রতারণায় জড়িত দম্পতি হলেন হুমায়ুন কবির ও তানজিনা পাটোয়ারী।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন-অর রশিদ জানান, সম্প্রতি একজন ভুক্তভোগী তার করোনার সার্টিফিকেট ও সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আচরণে সংশয় প্রকাশ করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশকে অনুরোধ করেন তিনি। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে যা বেরিয়ে আসে তা কল্পনাকেও হার মানায়। করোনার সনদ নিয়ে এমন প্রতারণা সত্যি অবিশ্বাস্য। অনলাইনে দুটি সাইট খুলে সেখানে হটলাইন নম্বর দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করেন তারা। এরপর তাদের স্যাম্পল আনতে যেতেন।

তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাহমুদ খান জানান, তানজিনা পাটোয়ারী পেশায় একজন নার্স। তার স্বামী হুমায়ুন কবির গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তারা এক সময় জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা প্রজেক্টে চাকরি করতেন। সরকারি সংস্থার অনুমতি নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে শুরুতে তারা করোনার নমুনা পরীক্ষা করে বৈধ ল্যাবে পাঠাতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের কাজ ছিল স্যাম্পল কালেকশনের বুথ তৈরি করা। পরবর্তীকালে স্বামী-স্ত্রীর মাথায় কুমতলব আসে। ১২ এপ্রিল তারা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে নিজেরা অনলাইনে ‘বুকিং বিডি’ ও ‘হেলথ কেয়ার’ নামে দুটি সাইট খোলেন। এরপর ওই সাইট থেকে অনেককে প্রলুব্ধ করে নমুনা সংগ্রহ করে থাকেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে আশকোনার বাসায় অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। তাদের বাসায় আটটি পিপিই, নমুনা সংগ্রহের ৫০টি স্টিক ও অনেক হ্যান্ড গ্লাভস পাওয়া যায়। একটি কম্পিউটারও জব্দ করা হয়। সেখানে ৪২ জনকে ভুয়া করোনার রিপোর্ট দেওয়ার তথ্য মিলেছে। সর্বশেষ সোমবারও পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন স্বামী-স্ত্রী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, মূলত অর্থের লোভেই তারা এ ধরনের প্রতারণায় জড়িয়েছেন। যে জোবেদা খাতুন স্বাস্থ্য সেবা প্রজেক্টে চাকরি করতেন তা ওভাল গ্রুপের সিস্টার কনসার্ন। ওই প্রতিষ্ঠানের অনেকেই করোনার সার্টিফিকেট নিয়ে এ ধরনের বাণিজ্য করছেন। সেখান থেকেই তারা এই অপরাধে জড়াতে উদ্বুদ্ধ হন।

এরপরই মঙ্লবার গুলশান-২ নম্বরে জেকেজি নামে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তার কর্ণধারসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থেকে দুটি ডেস্কটপ, চারটি ল্যাপটপ ও তিন হাজার পিস স্যাম্পল কালেকশন স্টিক জব্দ করা হয়েছে।

তারেক রহমানের হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিল বগুড়া জেলা ছাত…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না, দেশকে এগিয়ে নিতে চাই: …
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
‎কিশোরগঞ্জ হাওরে গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
কাল থেকে ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
একটা দল পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে: জামায়াত
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
বোরকা পরে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হলে প্রতিহত করা হবে: ম…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬