বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি © টিডিসি সম্পাদিত
তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মরদেহের নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সুরতহাল প্রতিবেদনে। এ ছাড়া মরদেহের পেট ফোলা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ফেরিঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরদেহের বুক, পেট, পিঠ, পা ও শরীরের অন্যান্য অংশে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। মরদেহের চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। দুই হাত কপালের দিকে বাঁকানো এবং হাতের মুঠো খোলা অবস্থায় ছিল। পেটও ফোলা দেখা যায়।
প্রতিবেদনে মরদেহের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরনে ছিল কালো হাতাওয়ালা কাবলি শার্ট ও সাদা পায়জামা। হাতে একটি হাতঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের সূত্র ধরেই তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বুধবার বিকেল পৌনে ৬ টার দিকে রাজাবাড়ী ফেরিঘাট এলাকায় মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, নদী থেকে উদ্ধার করা মরদেহটি আনুমানিক ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির। পরে তার পরিচয় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরি হিসেবে শনাক্ত হয়। তার বাবার নাম কে এম এনায়েত এবং ঠিকানা উত্তরায়।
বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যের ভিডিও প্রকাশের পর তিনি আলোচনায় আসেন।