বাবাকে ভিডিও কলে নির্যাতনের কথা জানান বর্ষা, হাসপাতালে গিয়ে মিলল মৃত্যুর খবর

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ PM
নিহত জুমরাতুন নেছা বর্ষা

নিহত জুমরাতুন নেছা বর্ষা © সংগৃহীত

স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে গভীর রাতে বাবাকে ভিডিও কল করে সাহায্য চেয়েছিলেন জুমরাতুন নেছা বর্ষা (২৪)। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এমনকি ওই বাসা থেকে না নিয়ে গেলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও জানান। একপর্যায়ে ভিডিও কলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মেয়ের খোঁজ নিতে বাসায় পৌঁছে তাঁর মা-বাবা দেখতে পান একটি অ্যাম্বুলেন্স। পরে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, বর্ষা আর বেঁচে নেই।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে রাজধানীর মণিপুরিপাড়ার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বর্ষাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বর্ষার বাবা শেখ মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তিনি লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা।

বর্ষার চাচা শেখ জাকির হোসেন বলেন, ভালোবেসে এক বছর আগে বর্ষা ও নাবিদ হোসাইনের বিয়ে হয়েছিল। নাবিদ কোনো কাজ করতেন না। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শ্বশুরের কাছে টাকা চাইতেন তিনি। বর্ষার পরিবার আগেও কয়েকবার তাকে টাকা দিয়েছিল। তবে টাকা চাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বর্ষাকে মারধরও করা হতো। এর আগে একবার মারধরের শিকার হয়ে বর্ষাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। তবে এসব ঘটনার কিছুই তখন পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়নি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শেখ জাকির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার আবারও তার ভাইয়ের কাছে টাকা চাওয়া নিয়ে বর্ষাকে মারধর করা হয়। শ্বশুরবাড়ির একজন ওই মারধরের দৃশ্য ধারণ করে বর্ষার পরিবারকে পাঠান। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রাত ১২টার দিকে বাবাকে ভিডিও কল করেন বর্ষা। এ সময় তাকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। বারবার তাকে ওই বাসা থেকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। না নিয়ে গেলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও জানান। একপর্যায়ে ভিডিও কলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

জাকির হোসেন আরও বলেন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বর্ষার মা-বাবা মেয়ের বাসার উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মণিপুরিপাড়ার ওই বাসার সামনে গিয়ে তারা একটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। পরে বর্ষার শ্বশুরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, বর্ষা আত্মহত্যা করেছেন। তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

এ কথা শুনে বর্ষার মা-বাবাও হাসপাতালে যান। তখনো তারা জানতেন না, তাদের মেয়ে মারা গেছেন। হাসপাতালে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে বর্ষাকে নামানোর সময় তারা ডাকাডাকি করতে থাকেন। পরে কর্তব্যরত নার্সরা পরীক্ষা করে জানান, বর্ষা মারা গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুজ্জামান বলেন, যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বর্ষাকে মারধর করতেন তার স্বামী নাবিদ হোসাইন। বর্ষার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বর্ষার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পরে হাসপাতাল থেকে নাবিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতেও পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

বর্ষার স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে ব্যবসা ও মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য বর্ষাকে চাপ দিতেন নাবিদ। বর্ষার বাবা কয়েকবার টাকা দিলেও নাবিদ সেই টাকা দিয়ে মাদক সেবন করতেন বলে অভিযোগ তাদের। এ কারণে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় বর্ষার পরিবার। এর জের ধরে বর্ষার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায় বলে দাবি স্বজনদের। তবে মারধরের কথা বর্ষা সব সময় পরিবারের সদস্যদের জানাতেন না। তবে বর্ষার পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে নাবিদের পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লিটনকে ঘিরে দুঃসংবাদ দিল বিসিবি
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬
‘আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে, কী দোষ ছিল তার?’—তাহসিফের খা…
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬
একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে ফের কমল জ্বালানির দাম
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬
কর কমিশনারের কার্যালয়ে ৬০ পদে নতুন নিয়োগ 
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সাফের টিকিট বিক্রি শুরু রাতে, কিনবেন যেভাবে
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে যা বলছে নৌ-পুলিশ
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬