মিয়ানমার সীমান্ত ঘিরে মাদকের ৬০ হটস্পট

এই নাফ নদী পেরিয়ে মাদকদ্রব্য ঢুকে বাংলাদেশে

এই নাফ নদী পেরিয়ে মাদকদ্রব্য ঢুকে বাংলাদেশে © সংগৃহীত

মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা উখিয়া ও টেকনাফে অন্তত ৬০টি হটস্পট ব্যবহার করে এখনো বাংলাদেশে ইয়াবা ও আইসের মতো মাদকের চালান প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র। সীমান্তজুড়ে ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ ও শত শত কারবারি গ্রেপ্তার হলেও সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় পাচার থামছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, নাফ নদ পেরিয়ে আগে শুধু ইয়াবা এলেও এখন পাল্লা দিয়ে আইসের চালান আসা বাড়ছে। বিভিন্ন সময় অভিযানে মাদকের বাহকরা গ্রেপ্তার হলেও মূলহোতা ও মাদক কারবারির পৃষ্ঠপোষকরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে থামছে না মাদক ব্যবসা, উল্টো বাড়ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পলাতক মাদক কারবারিরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চেষ্টা করছে মাদকের বড় বড় চালান দেশে আনার জন্য। পাশাপাশি কোনো কোনো মাদক কারবারি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয় হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

কক্সবাজার-টেকনাফ সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই লাখ লাখ ইয়াবা বড়িসহ অন্যান্য মাদক উদ্ধার হচ্ছে, গ্রেপ্তার হচ্ছেন শত শত ব্যক্তি। তবু থামছে না পাচার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তজুড়ে তারা ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করে এখনো বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করছে। নাফ নদী, পাহাড়ি পথ, ছড়া, উপকূলীয় এলাকা, মাছ ধরার ট্রলার এবং দুর্গম সীমান্ত করিডরকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটগুলো মাদকের চালান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিচ্ছে।

গত ২২ জুন রাতে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের কাটাখাল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ জাকির হোসাইন (৩২) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করে বিজিবি। তিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখাল এলাকার বাসিন্দা। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ হলেও সীমান্তজুড়ে সক্রিয় সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কারণে এই চক্রের অপতৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

মাদক পাচারের ৬০ হটস্পট
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফে মাদক আনা হচ্ছে ৬০টি পয়েন্ট দিয়ে। এর মধ্যে উখিয়ার নাফ নদী ও স্থলপথ সীমান্তে ৭টি, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী ৮টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত মাদকের চালান ঢুকছে। টেকনাফের নাফ নদীর পাশে ২৬টি এবং বঙ্গোপসাগরতীরের ১৯টি পয়েন্ট দিয়ে মাদক আনা হচ্ছে। এসব পয়েন্ট ছাড়াও নৌপথে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, বরিশালের কুয়াকাটা দিয়েও ইয়াবার চালান আনছে পাচারকারীরা। 

উখিয়ায় মাদক পাচারের কিছু পয়েন্টের মধ্যে রয়েছে থাইংখালী, পালংখালী, বালুখালী, আমতলী, ডিগলিয়া, পাতাবাড়ি, বঙ্গোপসাগরের ইনানি, পাথুয়ার টেক, সোনার পাড়া ও রেজুখাল। টেকনাফের পয়েন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ, মিস্ত্রিপাড়া, নোয়াপাড়ার মগপাড়া, ঝিনাপাড়া স্লুইস গেট, সাইটপাড়া, আছারবনিয়া, সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া, নাজিরপাড়া, টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া ও কায়ুকখালী ঘাট। এ ছাড়া রয়েছে নাইট্যংপাড়া, বড়ইতলী, হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া, নেচার পার্ক, লেদা, জাদিমুড়ার জাইল্যাঘাটা, মৌচনী, চৌধুরীপাড়া, ওয়াব্রাং, ফুলের ডেইল, নাটমুড়া পাড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্ট। বঙ্গোপসাগরতীরবর্তী পয়েন্টগুলো হচ্ছে সেন্ট মার্টিন, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ, দক্ষিণ পাড়া, ঘোলার পাড়া, মাঝের পাড়া, হারিয়াখালী, কাটাবনিয়া, হাদুরছড়া পয়েন্ট, মুণ্ডার ডেইল ঘাট, টেকনাফ সদরের লম্বরী ঘাট, তুলাতলী, মিঠাপানির ছড়া ইত্যাদি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাচারকারীদের নজরে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তজুড়ে একাধিক সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, ডাকাতি ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষক ও শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। ফলে গ্রেপ্তার হয় মূলত বাহক ও ছোট সদস্যরা, আর সিন্ডিকেটের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা থেকে যায় আড়ালে।

নৌপথ ও মেরিন ড্রাইভে সক্রিয় পাচার চক্র
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী, শাহপরীর দ্বীপের নৌঘাট এবং মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন বিভিন্ন নৌপথ ব্যবহার করে মাছ ধরার আড়ালে নানা কৌশলে মাদকের চালান সাগর ও নদীপথে দেশে প্রবেশ করছে। এ কাজে কিছু রোহিঙ্গা জেলে ও স্থানীয় জেলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় বড় কারবারিরা এসব পয়েন্টকে তুলনামূলক নিরাপদ করিডর হিসেবে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে প্রবেশ করায়। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের কিছু চিহ্নিত মাদক কারবারি রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মাদক পরিবহনে তারা দেশীয় অস্ত্র ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল ব্যবহার করছে। বিপুল অর্থের জোরে এসব চক্রের সদস্যরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

তারা জানান, প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাধারণত আড়ালে থেকে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট নৌঘাট, উপকূলীয় এলাকা ও মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন রুটগুলোয় নজরদারি বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

জব্দ হচ্ছে লাখ লাখ ইয়াবা, তবুও থামছে না পাচার
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে কক্সবাজার জেলায় মোট ৪৩ লাখ ২১ হাজার ৮৬৪ ইয়াবা, ৫ দশমিক ২৫০ কেজি আইস, ৪০ দশমিক ৩ কেজি গাঁজা এবং ৬৩ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৯৮ জনকে আটক করা হয়। জব্দ মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪২ কোটি ৬১ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএন) সাব্বির আলম সুজন বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।’

এদিকে এত বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ হওয়ার পরও সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তালিকায় কক্সবাজার জেলার ১ হাজার ১৫১ জন মাদক কারবারির নাম উঠে এসেছে, যার মধ্যে ৯১২ জনই টেকনাফের বাসিন্দা। তালিকাভুক্ত শীর্ষ ৭৩ ইয়াবা কারবারির মধ্যে ৬৫ জনের অবস্থানও টেকনাফে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তালিকাভুক্তদের বাইরে গত কয়েক বছরে নতুন করে আরও অনেক ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ চক্র মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে, যাদের বড় অংশ এখনো শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে।

আত্মসমর্পণের পরও থামেনি মাদক চক্র 
মাদক নির্মূলে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলেও সীমান্তকেন্দ্রিক ইয়াবা পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশের তালিকাভুক্ত ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, আত্মসমর্পণকারী ও মাদক মামলার অনেক আসামির একটি অংশ পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে আত্মসমর্পণ কর্মসূচি আলোচনায় এলেও সীমান্তভিত্তিক মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া মাদক মামলাগুলোর তদন্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাহক বা ক্ষুদ্র পর্যায়ের কারবারিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও মাদকের উৎস, অর্থদাতা, পৃষ্ঠপোষক ও সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন কিছু এলাকা মাদক পাচার ও সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে সীমান্তের এক প্রান্তে অভিযান চললেও অন্য প্রান্তে নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠছে পাচারকারীরা, যা মাদকবিরোধী লড়াইকে আরও জটিল করে তুলছে।

কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে অব্যাহত মাদক প্রবেশ শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। যে ইয়াবা সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকছে, তা আগামীতে একটি পরিবার ধ্বংস করছে। মাদকের কারণে অপরাধ বাড়ছে, শিক্ষার্থীরা বিপথে যাচ্ছে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। শুধু অভিযান নয়, সিন্ডিকেটের অর্থের উৎস এবং পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।’

দেড় বছরে হাজারের বেশি গ্রেপ্তার
মাত্র দেড় বছরে কক্সবাজার সীমান্ত থেকে প্রায় আড়াই কোটি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এক হাজারের বেশি ব্যক্তি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আসা এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে, সীমান্তজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলেও ইয়াবা পাচারের প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

বিজিবির কক্সবাজারের রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ২০২৫ সালে মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ৯৯৩টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৩১ কোটি ৭৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯০০ টাকা। এ সময় মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায় ৭৮৪ জনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসেই উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১ কোটি ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫০৩ পিস ইয়াবা, যার আনুমানিক মূল্য ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা। একই সময়ে আটক হয়েছেন ৪৩৮ জন। 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, ‘প্রতিবার বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ হওয়ার খবর আসে, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এই বিশাল চালানের মূল হোতারা কারা? তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মাদক নির্মূল করা কঠিন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তের অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ রুটে কঠোর নজরদারি, সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ধ্বংস এবং প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের বিচারের মুখোমুখি করা গেলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্য অনেকটাই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, ‘কক্সবাজার সীমান্তকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের অপচেষ্টা দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় পাচারের চেষ্টাকালে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক নারী যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু চিহ্নিত মাদক পাচারের গডফাদারকে আটক করা হয়েছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক-অধ্যুষিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

১৩ দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণে পাবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক কনফারেন…
  • ২৭ জুন ২০২৬
খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি, আবেদন আগামীকাল বিকে…
  • ২৭ জুন ২০২৬
পূর্বধলায় জামায়াত এমপির বাড়ির পাশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
  • ২৭ জুন ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনা ধর্মীয় নয়, যে কারণ…
  • ২৭ জুন ২০২৬
এবার ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বাংলাদেশে…
  • ২৭ জুন ২০২৬
এক্সিকিউটিভ/সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে মদিনা গ্রুপ, আবেদ…
  • ২৭ জুন ২০২৬