শিক্ষার্থী আল মুহতাছিম সাইব (১৭) হত্যা মামলায় তিন আসামি গ্রেফতার © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আল মুহতাছিম সাইব (১৭) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শেরপুর পৌর শহরের দিঘারপাড় মহল্লার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে শান্ত হাসান (১৯), একই মহল্লার লেবু মিয়ার ছেলে মো. স্বাধীন (১৯) ও গৌর বর্মণের ছেলে সজীব বর্মন (১৮)।
এদিকে বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বাদ জুমা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা। শ্রীবরদী-শেরপুর সড়ক অবরোধ করে ২ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন তারা। পরে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।
এর আগে, সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সাইব শেরপুর পৌর এলাকার দমদমা কালিগঞ্জ মহল্লার বাসিন্দা। সাইবের বাবা আব্দুল মালেক শ্রীবরদীতে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং নিহত সাইব শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
জানা গেছে, ২৯ মে বিকেল ৪টার দিকে শেরপুরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় গাছের ছায়ার নীচে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাইব। এ সময় নাঈম মিয়া (১৯), পাপ্পু (২০) স্বপন (২১) ও আরমান (২০) একই স্থানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলবে বলে সাইবকে সরে যেতে বলেন। সাইব সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করেন অভিযুক্তরা। এরইমধ্যে ফোনে আরও ১০-১৫ জনকে ডেকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাইবকে মারধর ও রাস্তার পাশে জমে থাকা ফসলি জমির পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় সাইবের চিৎকারে লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে সাইবকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন লাইফসাপোর্টে থাকার পর সোমবার দুপুরে মারা যান সাইব।
এদিকে মারধরের ঘটনায় ৬ জুন ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন সাইবের মা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, শিক্ষার্থী সাইব হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। আজ রাতে অভিযান চালিয়ে ভোরে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা একটি গোপন জায়গায় পালিয়ে ছিলেন। এবং একপর্যায়ে পানিতে ঝাঁপ দেন। পানি থেকে তাদের তুলে এনে গ্রেফতার করা হয়। আশাকরি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। এতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চাই।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থী সাইব হত্যা মামলায় কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।