গ্রেপ্তার রিয়াজ উদ্দিন আরফাত © সংগৃহীত
কক্সবাজার সদর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৬ বছর) ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় প্রধান আসামি রিয়াজ উদ্দিন আরফাতকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)।
গ্রেপ্তার রিয়াজ উদ্দিন আরফাত কক্সবাজার পৌরসভার ঝিলংজা ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিরঝিরি পাড়া, চন্দ্রিমা মাঠ এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী কক্সবাজার সদর এলাকার একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের ছাত্রী। প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ঝিলংজা এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন আরফাত তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নানা ধরনের প্রলোভন দেখানো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই সঙ্গে একাধিকবার শারীরিকভাবে মিলিত হন।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমদিকে বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তবে সময়ের সঙ্গে মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন তাদের নজরে এলে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, ওই কিশোরী প্রায় ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা করে। মামলা রুজুর পরপরই অভিযুক্ত রিয়াজ উদ্দিন আরফাত আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাব-১৫ জানায়, মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তারা ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযুক্তের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ জুন রাত ১০টা ১০ মিনিটে র্যাব-১৫-এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল কক্সবাজার সদর থানাধীন কলাতলী রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে ‘আলগনি হোটেল’-সংলগ্ন এলাকা থেকে রিয়াজ উদ্দিন আরফাতকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাব সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।