রামিসার বাবা © টিডিসি সম্পাদিত
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ভুক্তভোগী ওই শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আমি ১০০% খুশি। আলহামদুলিল্লাহ। এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্ক্ষা সেটা আমি পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমি শতভাগ আশাবাদী রায় দ্রুত কার্যকর হবে। আল্লাহ পাকের রহমত ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি। মাননীয় বিচারক, পুলিশ প্রশসন, সাংবাদিক ও বাংলাদেশের আপামর জনতা যারা আমার ও আমার পরিবারের বিপদের সময়ে মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন সবার নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অবশ্যই আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।’
কন্যা হারানোর কষ্টের মাঝেও আদালতের রায়ের পর যেন কিছুটা স্বস্তি মেলে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার। রায়ের পর আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। এ সময় রামিসার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রায় ঘোষণার পর দুই আসামিকে বেলা ১২টার দিকে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে নেওয়া হয়। প্রথমে বেলা ১২টার দিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানাকে নেওয়া হয়। এরপর বেলা ১২টা ১০ মিনিটের দিকে অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা দুই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে উদ্দেশ করে ‘খুনি, খুনি’ স্লোগান দিতে থাকেন।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় আট বছরের রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনাটি সামনে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়। ঘটনার দিনই পুলিশ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়। পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।