পাওনা টাকা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের দ্বন্দ্বে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা

০১ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ AM
হালিমা আক্তার

হালিমা আক্তার © সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পাওনা টাকা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত বিরোধের জেরে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ফুলদী নদী থেকে এক অজ্ঞাতনামা তরুণীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করে। তবে মরদেহটি অতিমাত্রায় পচে-গলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার তদন্তকারী দল বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত এবং সোর্সের সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত হালিমা আক্তার (১৯) গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ

এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গজারিয়া থানায় মামলা নং–৩৯, তারিখ–৩০/০৫/২০২৬, ধারা–৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।

তদন্তের একপর্যায়ে পিবিআইয়ের তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকা থেকে আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আলামিন প্রধান (৫০)-কে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত চারজনই জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তারা বিজ্ঞ আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআইয়ের তদন্ত এবং আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, নিহত হালিমা আক্তার পূর্বে আসামি আবু কালাম ও রাসেল মিয়াকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আসামি জামাল হোসেন ও আবু কালামের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত শারীরিক সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে ধার নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার চাপও ছিল। এসব কারণেই আসামিরা হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, এ পরিকল্পনায় আবু কালাম, জামাল হোসেন, রাসেল মিয়া এবং আলামিন প্রধান একত্রে অংশ নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় কৌশলে হালিমাকে বড় ভাটেরচর এলাকার নদীতীরে ডেকে আনা হয়। পরে নৌকাযোগে তাকে নদীর ওপারে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে আসামিরা তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে তদন্তে জানা গেছে। একপর্যায়ে নিহতের পরিহিত কাপড় ব্যবহার করে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আজ দেশের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
সে হয়ত না ‍বুঝে করেছে—মঞ্চে বোতল নিক্ষেপ নিয়ে গায়ক হাসান
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল ক্যাম্পাস গড়তে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
‘খুনী’-আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা থাকছেন সিনেটে, বয়কটের ঘোষণা দিল…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
কনস্টেবলের মতোও লাগে না—ওসিকে যুবদল আহ্বায়ক
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬