দীর্ঘ ১৭ বছর পরও পিলখানা হত্যা মামলা শেষ হয়নি; বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে। বিচার কার্যক্রম চলমান থাকলেও একই সঙ্গে নতুন করে কমিশন গঠনের আলোচনা সামনে আসায় অনিশ্চয়তা ও হতাশা বাড়ছে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় এবার প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপস-সহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে আসামি করা হচ্ছে।
বিস্ফোরক মামলার চিফ প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এ মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮শ জন।
মামলায় ১ হাজার ২০০ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দিতে শেখ হাসিনাসহ একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য এসেছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ৫ আগস্টের পর এ মামলার কয়েকশ আসামি জামিন পেয়েছেন বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। দেশের অন্যতম সুরক্ষিত স্থানে সংঘটিত এ নৃশংস ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন আসামি।