বাংলাদেশ দল © সংগৃহীত
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা এখনই থামছে না। বরং পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থস্থানে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সামনে এবার শীর্ষ তিনে উঠার সুযোগ। ডারবান টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা হেরে যাওয়ায় ব্যবধান কমেছে দুই দলের। পরের টেস্টেও অস্ট্রেলিয়া জয় পেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে তিন নম্বরে উঠে আসতে পারে বাংলাদেশ।
চলতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের শুরুতে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর লক্ষ্য ছিল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ পাঁচে থাকা। তবে সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে অনেক দিন ধরেই শীর্ষ চারের মধ্যে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এবার তৃতীয়স্থানে উঠে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এমনটা হলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্নও আরও জোরালো হবে।
এখন পর্যন্ত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আর বাংলাদেশের ম্যাচসংখ্যা ৬। দুই দলই তিনটি করে ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং দুটিতে হেরেছে। তবে একটি ম্যাচ ড্র করেছে বাংলাদেশ, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার ঝুলিতে এখনো কোনো ড্র নেই।
আগামী ১৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টের ফলের ওপর নির্ভর করছে পয়েন্ট টেবিলে দুই দলের অবস্থানের পরিবর্তন। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটি ড্র করলে তাদের পয়েন্টের শতকরা হার বাংলাদেশের সমান ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশে নেমে আসবে। বর্তমানে প্রোটিয়াদের পয়েন্টের হার ৬০ শতাংশ।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ম্যাচটি হারলে দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্টের হার কমে দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে টপকে যাওয়ার সুযোগ হারিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে যেতে পারে প্রোটিয়ারা, আর তিনে উঠে আসবে বাংলাদেশ।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি জয়ের জন্য একটি দল পায় ১২ পয়েন্ট। মোট ম্যাচসংখ্যার অনুপাতে অর্জিত পয়েন্টের শতকরা হার হিসাব করেই সাজানো হয় পয়েন্ট টেবিল। ফলে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি পয়েন্টের শতকরা হারও দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার পারস্পরিক লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চূড়ান্ত পর্যায়ে দুই দলের মধ্যকার টেস্ট সিরিজই পয়েন্ট টেবিলে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। এই দুই দলের পাশাপাশি ফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়া, দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ড এবং পঞ্চম স্থানে থাকা ভারত।