ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে অলআউট করে ১৪৬ রানের লিড পাওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ২২ রানেই ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসের মতো আরেকবার ব্যাটিং বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রথম বলেই স্টার্ক ফুলটস দিয়েছিলেন, সেটিকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছিলেন তানজিদ। আগের ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি এই পেসারের প্রথম ওভারও বেশ ভালোভাবেই পার করেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন স্টার্ক।
স্টার্কের বাউন্সার বুঝতে না পেরে ক্যাচ দিয়ে ১ রান করে ফিরেছেন সাদমান ইসলাম। ৩ বল খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। পরের বলেই বোল্ড হয়ে যান মুমিনুল হক।
নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে এসেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় বলেই চার মেরে শুরু করেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসের মতো আবারও যাতে ব্যাটিং ধস না নামে, এখন সেই দায়িত্বটা নিতে হবে অধিনায়ককে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২২ রানে ২ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এখনো ১২৪ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়ার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। প্রথম আধঘণ্টায় উইকেট না পেলেও পরে শরীফুল ইসলাম দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন। ধারাভাষ্যকক্ষে সেই বলের বর্ণনা এসেছে, ‘নব্বইয়ের দশকে ওয়াসিম আকরামের মতো ডেলিভারি।’
শরীফুলের দুর্দান্ত ইয়র্কারটি একটু দেরিতে সুইং করে গ্রিনের পায়ে আঘাত করে। আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। পরে রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ৬৭ রান করে এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন গ্রিন। এটি ছিল শরীফুলের সপ্তম উইকেট এবং তাতেই বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে ৭ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন শরীফুল। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এতদিন পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগারের মালিক ছিলেন শাহাদাত হোসেন। ১৮ বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙলেন শরীফুল।
অ্যাওয়ে টেস্টেও বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং ফিগার এখন শরীফুলের। এর আগে দুই মাস আগে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম।
শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন জশ হ্যাজলউড। তবে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন নাথান লায়ন। অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২১০ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের লিড পায় তারা।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে দিতে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা বেশ ভালোভাবেই করেছেন। ১৫ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন শরীফুল। তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
এখন সব দায়িত্ব ব্যাটসম্যানদের কাঁধে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।