বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল © সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম ওয়ানডেতে দাপুটে জয়ের পর এবার সিরিজ জয়ের স্বপ্ন ছুঁতে আর মাত্র এক ধাপ দূরে স্বাগতিকরা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ, যেখানে জয় পেলেই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ জয়ের ইতিহাস লিখবে লাল-সবুজরা।
গত মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। সেই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগেই দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় স্বাগতিকরা। এখন লক্ষ্য একটাই, ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করা।
প্রথম ম্যাচে সাইফ হাসান দ্রুত আউট হলেও তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত দলকে শক্ত ভিত দেন। পরে তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মোসাদ্দেক হোসেন, যিনি দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে অপরাজিত ৮৬ রান করেন এবং বল হাতে ২ উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হয়ে তিনি দলের জয়ের অন্যতম নায়কে পরিণত হন।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণও ছিল দুর্দান্ত। তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান শুরুতেই উইকেট তুলে নেন। এরপর তরুণ পেসার নাহিদ রানা তার গতির ঝড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। তিনি ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করে চার উইকেট শিকার করেন এবং ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেন।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ফিল্ডিংয়ে একাধিক ভুল করে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। মোসাদ্দেকের তিনটি ক্যাচ মিস করে সফরকারীরা বড় মূল্য চুকায়। নাজমুল হোসেন শান্তও একবার জীবন পান। তবে ক্যামেরন গ্রিন ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় কোনো পারফরম্যান্স দেখা যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার বোলার নাথান এলিস কিছুটা লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। তিনি আগের ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন এবং এবারও অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ভরসা হিসেবে থাকছেন।
বাংলাদেশ এই ম্যাচেও আগের একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারে।
বাংলাদেশ সম্ভাব্য একাদশ
তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা।
অস্ট্রেলিয়া দলে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। টড মারফি ও ম্যাথিউ কুনেম্যান স্পিন অপশনে থাকলেও মূল একাদশে পরিবর্তন সীমিত থাকতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া সম্ভাব্য একাদশ
ম্যাট শর্ট, কুপার কনোলি, মার্নাস লাবুশেন, জশ ইংলিশ (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), অ্যালেক্স কেরি, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাট রেনশ, লিয়াম স্কট, জেভিয়ার বার্টলেট, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ২৮৪ রান করলেও তারা মনে করে এই উইকেটে ৩২০ রান করা সম্ভব ছিল। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিং সহায়ক পিচ দেখা যেতে পারে। তবে ঢাকার আকাশে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় আবহাওয়া কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ শেষ পাঁচ ম্যাচে চারটি জয় পেয়েছে, আর অস্ট্রেলিয়া একই সময়ে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে। তাই আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে স্বাগতিকরাই।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও নজর থাকবে মোসাদ্দেক হোসেন ও নাথান এলিসের দিকে। মোসাদ্দেক মিডল অর্ডারে স্থিতি এনে দলের বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন, আর এলিস তার সুইং ও ভ্যারিয়েশনে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে রাখছেন।
সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচ শুধু একটি দ্বৈরথ নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস গড়ার এক বড় সুযোগ। জয় পেলেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসবে টাইগাররা।