রোজায় খেজুরের হিসাব দিয়েছিলেন অনেক এমপি, ঈদে পাওয়া ১০ লাখের কী খবর?

২৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৪ PM , আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩০ PM
রোজায় খেজুরের হিসাব দিয়েছিলেন অনেক এমপি, ঈদে পাওয়া ১০ লাখের কী খবর?

রোজায় খেজুরের হিসাব দিয়েছিলেন অনেক এমপি, ঈদে পাওয়া ১০ লাখের কী খবর? © টিডিসি

সৌদি আরবের উপহারের খেজুর বিতরণের হিসাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবে জনগণের বরাদ্দগুলো প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেখা যায় জনসাধারণের মধ্যে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে এমন পদক্ষেপকে কার্যকরী উদ্যোগ বলেও মনে করেন অনেকে। 

এরপর হাসনাতের ধারাবাহিকতায় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য নির্বাচনি এলাকার বরাদ্দকৃত খেজুরের হিসাব প্রকাশ করেন। সম্প্রতি হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে আবারও দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি বরাদ্দের ১০ লাখ টাকার হিসাব দিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত বাকি সংসদ সদস্যদের এই টাকার হিসাব ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। তাহলে জাতীয় সংসদের সদস্যরা জনগণের জন্য সরকারি বরাদ্দ জনসম্মুখে প্রকাশে কতটা আগ্রহী তা নিয়ে প্রশ্নের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া আদৌ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবে বরাদ্দের তথ্য প্রকাশ কতটা সমর্থনযোগ্য তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। 

গত ২৪ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সরকারি বরাদ্দের ১০ লাখ টাকা বিতরণের হিসাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি ও জবাবদিহিতা নামক ফেসবুক পেইজ থেকে তালিকাসহ বণ্টনের হিসাব প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে সেবাগ্রহীতাদের নাম, ওয়ার্ড ও স্বাক্ষর প্রকাশ করেন তিনি। 

হাসনাত জানান, তার নির্বাচনি এলাকা দেবীদ্বার উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার মোট ১৪৪ ওয়ার্ডে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর গোপন রেখে বাকি তথ্য প্রশাসনিক অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত তালিকার ভিত্তিতে ১ হাজার মানুষকে নগদ এক হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫০০ জনকে ঈদ সামগ্রী সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। 

এমন পদক্ষেপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। নেটিজেনদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। হাসনাতের আইডি থেকে পোস্টটি ১ হাজার ৯০০ বার শেয়ার হয়, এছাড়া রিঅ্যাক্ট করা হয়েছে ৬০ হাজার আইডি থেকে। 

তবে হাসনাত ছাড়া বাকি সংসদ সদস্যদের এই বরাদ্দ ও বণ্টনের বিষয় প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। এর আগের সংসদগুলোতেও সংসদ সদস্যরা এধরনের কোনো বিষয়ে জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি। ফলে জনসাধারণ এধরনের সরকারি বরাদ্দগুলোর বিষয়ে সম্পূর্ণ অগোচরে ছিলো বলে মনে করেন অনেকে।

যাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হচ্ছে, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য জনসম্মুখে চলে আসছে। এতে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। - অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম, পরিচালক, গণতন্ত্র চর্চা কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এরআগে গত রমজানে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে আলাপ দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেসময় বরাদ্দের খেজুর ‍নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক তোলপাড় হয়। বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যদের ফেসবুকে ট্যাগ দিয়ে তাদের আসনের জন্য বরাদ্দের খেজুরের হিসাব চাইতেও দেখা যায়। পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে সৌদি আরবের 'কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার' থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২,৫০০ কার্টন খেজুর বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিতরণ করা হয়।  

এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু ফেসবুকে লিখেছিলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি না হলে, সরকার যে খেজুর দেয় জনগণ জানতোই না। পেলেও জনগণ জানতো এলাকায় নেতায় পাঠিয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বাপ্পি নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, আহা খেজুর! রমজানও শেষ পর্যায়ে, কুমিল্লার ৫২০ কার্টুন খেজুর কই?
হাসনাত এমপি না হলে, সরকার যে খেজুর দেয় জনগণ জানতোই না।

হাসনাতের পর তখন খেজুরের হিসাব দিতে দেখা যায় আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে। তারা হলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন, পিরোজপুর–১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এছাড়া বরগুনা-১ মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ফেসবুকে পোস্টে জানান, খেজুরের হিসেব দেওয়া হবে। আর নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ খেজুরের কার্টনের সংখ্যা জানান ফেসবুক পোস্টে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল চৌধুরি এ্যানিকে বিরোধী দলের নেতাদের সাথে নিয়ে খেজুরের হিসাব ঘোষণা করতে দেখা যায়।

তবে হাসনাত আব্দুল্লাহ ঈদ উপলক্ষ্যে সরকারি বরাদ্দের ১০ লাখ টাকার হিসাব দেওয়ার পর বাকিদের এই টাকার হিসাব দিতে দেখা যায়নি। 

সরকারি বরাদ্দের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ নিয়ে যা বলছেন সংসদ সদস্যরা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেজুরের হিসাব দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দের বিষয়গুলো অনেক সময় লুটপাটের জায়গা হয়ে যায়। নেতাকর্মীরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। তাই বিষয়গুলো ওপেন থাকলে জনগণ প্রশ্ন করতে পারে।’ তিনি আরও জানান, তাদের নির্বাচনি ইশতাহারেও জবাবদিহিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল, সেখান থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি হাসনাত আব্দুল্লাহর ১০ লাখ টাকা বরাদ্দের তথ্য ফেসবুকে প্রকাশ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরাও ১০ লাখ টাকা বিতরণ করেছি, শাড়ি বিতরণ করেছি। সবগুলোর অফিসিয়াল ডকুমেন্ট সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালিকা আকারে প্রকাশ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এড়িয়ে যাওয়ার কিছু নেই, হয়ত ওই সময় হয়ে ওঠেনি। আমাদের সবকিছুই ওয়েল ডকুমেন্টেড থাকবে এবং জনসাধারণের কাছে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হবে।’

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী দ্য ডেইলি ক্যম্পাসকে জানান, এটি তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই আমরা বলেছিলাম, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই। একটি পরিচ্ছন্ন রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ২০২৪ সালের যে চেতনা এবং ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা— সেখান থেকেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জবাবদিহিতার বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত ও নৈতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গেও যুক্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমাদের নিজেদের বিবেকের কাছেও জবাবদিহিতা আছে। আমরা পরকালের জবাবদিহিতাতেও বিশ্বাস করি। তাই প্রতিটি কাজের হিসাব জনগণের কাছে তুলে ধরতে চাই।’

তিনি জানান, নির্বাচনের সময়ই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন— প্রতিবছর সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ ও তার ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন। ‘আমি বলেছি, এগুলো ডকুমেন্টেড করে বই আকারে প্রকাশ করব, যাতে জনগণ চাইলে যাচাই করে দেখতে পারেন,’ যোগ করেন তিনি।

এটা নাগরিকের অধিকার— সরকারের কাছ থেকে তারা কী পাচ্ছে, কী পাচ্ছে না তা জানার। অনেক সময় তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমেও মানুষ তথ্য জানতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছে। - খান মুহাম্মদ মুরসালীন, প্রাথমিক প্রতিনিধি, গণবিপ্লবী উদ্যোগ

অন্যান্য সংসদ সদস্যদের এই চর্চায় অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টাকে সেভাবে দেখি না। এটি ছোট একটি ইস্যু ছিল। তবে এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়, কারণ এটি দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ। অনেক সময় তারা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, রাজনৈতিকভাবে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রথমে এই উদ্যোগ নিয়েছেন, তিনি প্রশংসার দাবিদার। তার উদ্যোগের পর আমরা কয়েকজন এটি অনুসরণ করেছি।’

১০ লাখ টাকার সাম্প্রতিক বরাদ্দ প্রকাশের বিষয়ে তিনি জানান, তার আসনেও এ ধরনের বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে। ‘আমরা উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বোর্ডে তালিকা প্রকাশ করেছি এবং উন্মুক্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করেছি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ঘোষণা করা হয়েছে’ বলেন তিনি।

তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মানবিক সহায়তা কমিটিকে সক্রিয় করে স্বচ্ছতার সঙ্গে তালিকা তৈরি ও বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর-১ আসনের খেজুরের বরাদ্দের হিসাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছিলেন। এছাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে সরকারি বরাদ্দ হস্তান্তর অনুষ্ঠানের ছবি ফেসবুকে যুক্ত করেছেন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই কি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কার্যকরী সমাধান?

সংবিধানে বলা হয়েছে, জনগণের অর্থ (কর) ব্যবহারে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। তবে জবাবদিহিতা কীভাবে করা হবে তা নিয়ে স্পষ্ট করা হয়নি। সরকারি বরাদ্দের ত্রাণ বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ক্ষেত্রে জেলা/উপজেলা কমিটি তালিকা তৈরি ও অনুমোদন করে সেখানে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যক্তিরা যুক্ত থাকেন। উপজেলা/ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ বোর্ডে টানানো হয় আর অফিসে তালিকা রাখা হয়। কখনো উন্মুক্ত সভা বা বিতরণ অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয়।

সংবিধানে এ ধরনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া উল্লেখ থাকে না জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও গণতন্ত্র চর্চা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে মূলত জবাবদিহিতার নীতিগত বিষয়গুলো থাকে। নির্দিষ্টভাবে কীভাবে তথ্য প্রকাশ করতে হবে, তা বিভিন্ন আইন ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সরকারি অর্থ মূলত জনগণের করের টাকা। তাই এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। সংসদীয় ব্যবস্থায় মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার একটি কাঠামো রয়েছে, যেখানে সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন করেন এবং মন্ত্রীরা উত্তর দেন— এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ ও ত্রাণ বিতরণের তালিকা প্রকাশকে ইতিবাচক চর্চা হিসেবে দেখছেন, গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রাথমিক প্রতিনিধি ও সাবেক এনসিপি নেতা খান মুহাম্মদ মুরসালীন। তবে এটি ব্যক্তি উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘এটা নাগরিকের অধিকার— সরকারের কাছ থেকে তারা কী পাচ্ছে, কী পাচ্ছে না তা জানার। অনেক সময় তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমেও মানুষ তথ্য জানতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছে। তাই এ ধরনের প্রকাশনা অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ, যা জনগণের কনসার্নে বিষয়গুলো নিয়ে আসে।’

তবে তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগ কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়া উচিত। তার ভাষায়, ‘আমরা আশা করেছিলাম, গণ-অভ্যুত্থানের পর এই জবাবদিহিতা একটি সিস্টেমে পরিণত হবে। কিন্তু এখনো তা ব্যক্তি উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সংসদ সদস্যরা যদি সামগ্রিকভাবে এই চর্চা অনুসরণ করেন, তাহলে জনগণের সঙ্গে সরকারের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি অনেক ক্ষেত্রে উদাসীনতা ও দ্বিমুখী আচরণ রয়েছে।’

সরকারি তথ্য প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু উপজেলা অফিসে তালিকা টানিয়ে রাখলে সবাই জানতে পারে না। আমাদের জনসংখ্যা বড়, নাগরিকদের সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের সংযোগও সীমিত। সেখানে ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করলে তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।’

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘যখন কোনো বিষয় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, তখন সেটি বিভিন্ন মাধ্যমে একসঙ্গে প্রচার করা হয়— সংবাদ সম্মেলন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা সরকারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। এতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ে এবং সরকারের অবস্থানও পরিষ্কার থাকে।’

সরকার চাইলে আরও সহজ উপায়ে জনগণকে তথ্য জানাতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘একটি এসএমএস দিয়েও মানুষকে জানানো সম্ভব। এতে খুব বেশি খরচ হয় না, কিন্তু জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে যায় যে তাদের অধিকারের বিষয়ে সরকার সচেতন,’ যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘জবাবদিহিতার এই সংস্কৃতি যদি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে আলাদা করে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে না— এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রূপ নেবে।’

এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়, কারণ এটি দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ। অনেক সময় তারা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, রাজনৈতিকভাবে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়। - মাসুদ সাঈদী, সংসদ সদস্য, পিরোজপুর-১

সরকারি বরাদ্দের তথ্য প্রকাশ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম। তবে এ ধরনের উদ্যোগে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাবের বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে এক ধরনের স্বচ্ছতা দেখা যায় এবং জনগণ বুঝতে পারে বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে।’

তবে তিনি মনে করেন, এই প্রক্রিয়ায় কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। ‘যাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হচ্ছে, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য জনসম্মুখে চলে আসছে। এতে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে,’ বলেন তিনি।

সমাধান হিসেবে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষায়, ‘তথ্য এমনভাবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে, যেখানে যে কেউ চাইলে দেখতে পারবে— কিন্তু সবার ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্তভাবে ছড়িয়ে পড়বে না। সরকারের পক্ষ থেকে একটি নীতিমালা থাকা দরকার, যাতে একই নিয়মে সবাই তথ্য প্রকাশ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন যেটা হচ্ছে, কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিচ্ছেন, আবার অনেকে নিচ্ছেন না। ফলে এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া হয়ে উঠছে না। যদি সরকার নীতিমালা নির্ধারণ করে এবং তা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে এটি আরও কার্যকর হবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেলে তবেই প্রকৃত পরিবর্তন আসবে।’

ওমরাহ ও ভিজিট ফোরামের সভায় যোগ দিতে সৌদি গেলেন ধর্মমন্ত্রী 
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
হোয়াটসঅ্যাপে আসছে নতুন ৬ সুবিধা
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
‘স্বপ্ন’র ডেটাবেজ হ্যাক, সার্চ দিলে মিলছে গ্রাহকের তথ্য
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
ভারতের বিপক্ষে ড্র করে সেমিতে যাদের পেল বাংলাদেশ
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
যুবদল নেতাকে না পেয়ে কলেজ ছাত্রকে কোপাল মাদক কারবারিরা
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
আমজনতার তারেককে কাছে ডেকে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence