মারধরের শিকার হওয়া ছাত্রী © সংগৃহীত
মাদ্রাসাতে ললিপপ খাওয়ার অপরাধে শ্রাবন্তী খাতুন নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। আহত ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা শারমিন বেগম অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারসহ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানাতে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ দামোদরপুর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগ ও শিক্ষার্থীর মাতা শারমিন বেগম জানান, টিফিনের সময় মাদ্রাসার কমনরুমে বসে ললিপপ খাওয়ার অপরাধে আমার মেয়ে শ্রাবন্তী (১৪)-কে দুই দফা মারপিট করেছেন শিক্ষকরা। প্রথম দিন দুপুরে ঘটনার সময় মাদ্রাসার কমনরুমে শিক্ষক আলেয়া খাতুন তাকে মারপিট করে। পরদিন বুধবার সকালে পুনরায় তার মেয়েকে মাদ্রাসার অফিস রুমে ডেকে সুপার দেলোয়ার হোসেন ও শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন বেত দিয়ে তার মেয়েকে বেধড়ক মারপিট করেন। মেয়েটি বাড়িতে এসে ঘটনাটি তার পরিবারকে জানায়। মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেতের আঘাতের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। আহত শিক্ষার্থীকে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থী শ্রাবন্তীর মা আরও জানায়, মেয়েকে মারধরের ঘটনার পরই বিষয়টি জানতে তার চাচা শ্বশুর মকবুল হোসেনকে ওই মাদ্রাসাতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তার সাথেই খারাপ আচরণ করেন শিক্ষকরা। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসার সুপার দেলোয়ার হোসেন মুঠোফোনে শিক্ষার্থীকে মারপিট ঘটনায় সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ললিপপ খাওয়া নিষেধ। তিনি বলেন, নিষেধ সত্ত্বেও ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসাতে বসেই ললিপপ খাবার সময় অন্য ছাত্রদের দেখিয়ে বাজে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করছিল। এ অপরাধের শাসন করতেই তাকে কিছুটা মারপিট করেছেন। এটা মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার জন্যই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জুলফিকার আলী জানান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মারপিট ঘটনার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেব বলে জানান তিনি।