পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিল সেনাবাহিনী © টিডিসি ছবি
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধের কারণে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটককে বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইটপাটকেলের আঘাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই এলাকায় থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলায় সেখানে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা বাধা দেন।
এ সময় সড়কে প্রতিবন্ধকতা সরানোর চেষ্টা করলে অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্য আহত হন। আহতদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাজেক সড়কে এ অবরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন নামে স্থানীয় দুটি সংগঠন তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে।
অবরোধকারীদের অভিযোগ, সাজেকের মাচালং এলাকার বিভিন্ন স্থানে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। সাজেকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতা ও সাধারণ মানুষের ওপর শোষণ-পীড়নের ঘটনা থেকে দৃষ্টি সরাতেই এমন প্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, গোলাগুলির ঘটনায় ইউপিডিএফের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সংগঠনটি অস্বীকার করেছে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের জড়িয়ে গোলাগুলির যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
পর্যটন ও যোগাযোগে নতুন অনিশ্চয়তা
উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের অবস্থান এবং গোলাগুলির ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে সাজেক সড়কে অবরোধ ও চলাচলে বিঘ্নের কারণে পর্যটন খাতের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় পাহাড়ি এ পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।