শুভ দাসের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা © টিডিসি
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার ৩ মাস ২৫ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে নিজ গ্রামে ফিরলেন সাতক্ষীরার কলারোয়ার তরুণ শুভ দাস (২৩)। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা-বাবা ও স্বজনেরা। উপার্জনের আশায় প্রায় তিন বছর আগে ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন বাবা-মা; এখন সেই ছেলের লাশের অপেক্ষারও অবসান হলো।
শুভ দাস শ্রীপতিপুর গ্রামের ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস ও ধানচাতাল শ্রমিক শিখা দাসের মেজো ছেলে। চার ভাই-বোনের সংসারে শুভকে ঘিরেই ছিল পরিবারের সবচেয়ে বড় আশা। অভাবের সংসারে সচ্ছলতার আশায় প্রায় তিন বছর আগে জমি ও গবাদিপশু বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে তাকে লেবাননে পাঠানো হয়।
পরিবারের স্বজনেরা জানান, বিদেশে গিয়ে উপার্জন করে প্রথমে ধারদেনা পরিশোধ করবেন শুভ। এরপর বাবা-মায়ের কষ্ট কিছুটা কমাবেন এটাই ছিল তার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের বদলে এখন পরিবারটির সামনে পড়ে আছে শোক আর অনিশ্চয়তা।
গত ১২ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি রুটি বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সাতক্ষীরার তিন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪০), আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (২০) ও কলারোয়ার শুভ দাস (২৩)।
হামলার পর শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলামের মরদেহ গত ২৭ জুন সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে এনে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। তবে নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শুভ দাসের মরদেহ দেশে ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল তার মরদেহ।
শুভর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা তার বাবা-মা। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে করা ধারদেনা কীভাবে পরিশোধ হবে, সংসার কীভাবে চলবে এসব প্রশ্নও এখন তাদের সামনে।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুভ দাসের মরদেহ দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশ বহন ও দাফন-কাফনের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে আরও ৫০ হাজার টাকা পরিবারটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।