সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমান তালুকদার © সংগৃহীত
ঝালকাঠির রাজাপুরে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবদলের কর্মী সাইফুল ইসলামকে (৩৫) কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমান তালুকদারের বিরুদ্ধে।
ঘটনার বিষয়টি আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে নিশ্চিত করেছেন রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস।
আহত সাইফুল ইসলাম উপজেলার পুটিয়াখালী গ্রামের আব্দুল লতিফ খানের ছেলে। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত আমান তালুকদার একই এলাকার আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদারের ছেলে। তিনি গালুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং পুটিয়াখালী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
আহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট রাতে গাজীরহাটে মোশাররফের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন সাইফুল ইসলাম। এ সময় আমান তালুকদার সেখানে এসে সাইফুলের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। তখন সাইফুল বলেন, ‘আপনাকে কিসের টাকা দেব?’ এ সময় আমান তালুকদার বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসছো, টাকা দিবা না? আপনি কি আমার কাছে চাঁদা চান?’ পরে সাইফুল টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আমান তালুকদার অস্ত্র বের করে সাইফুলের মাথা, বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার পর সাইফুলের পকেটে থাকা নগদ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে আমান তালুকদার ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে আহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। পরে স্থানীয়রা আহত সাইফুল ইসলামকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমান তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি সাইফুলের কাছে ৫০০ টাকা পেতাম। ওই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয়। সাইফুলের কাছে থাকা চাকুতেই সে নিজে আহত হয়েছে।’
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনার পরে আহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’