রংপুরে ৪ খুন
অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস © সংগৃহীত
রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার রাতে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস কেউই নিজ নিজ বাড়িতে ছিলেন না। তাদের অভিভাবকরাও ঘটনার রাতে তাদের বাড়িতে না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের খোঁজে পুলিশ আসার পর সিদ্ধার্থ এলাকায় কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে পাশের একটি বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে সিদ্ধার্থের শরীরজুড়ে আঁচড়ের চিহ্ন এবং ঘটনার পর ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পেয়ে পুলিশ প্রথমে তাকে আটক করে।
সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস বলেন, সিদ্ধার্থ মাঝেমধ্যে প্রতিবেশী বন্ধু ও আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুমাতো। বৃহস্পতিবার ওই রাতে সে বাড়িতে না থাকায় ধারণা করেছিলাম হয়ত সেখানেই ঘুমিয়েছে।
শনিবার রাতে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ এসে সিদ্ধার্থকে যখন খুঁজছিল তখন নিজে গিয়ে প্রতিবেশী এক কাকার বাড়ি থেকে সিদ্ধার্থে ডেকে দেই। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে।
মুগ্ধের মা সেনা দাস বলেন, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে মুগ্ধ এবং বাড়িতে বেড়াতে আসা তার নানিসহ ১০টার দিকে আমরা খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ি। মুগ্ধ তার রুমে চলে যায়। আমি এবং আমার মাসহ গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির কাজ করছিলাম। আমি জানতাম না যে, মুগ্ধ রুমে নেই। সে কখন বেরিয়ে গেছে জানি না। সকালে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় খেলতে গিয়েছিল। তাই আমি আর কথা বাড়ায়নি।
অন্যদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ অভিযানে এলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অপর অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধাওয়া করে তুতফার্ম এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। মুগ্ধর মা সেনা দাস জানান, ঘটনার দিন সকালে বিলম্বে বাড়ি ফিরলে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন মুগ্ধ। পরবর্তীতে পুলিশ আসার খবর পেয়ে সে বাড়ির পিছনের দিক দিয়ে পালিয়েছিল।
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, শরীরে আঁচড়ের চিহ্ন ও চিকিৎসার খবরের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।