দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে থাকায় রেসকিউ বোটে মরিচা ধরেছে © টিডিসি
পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় দুর্গত মানুষকে দ্রুত উদ্ধারের লক্ষ্যে শেরপুরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল কোটি টাকা মূল্যের দুটি ‘মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট’। তবে বরাদ্দের চার বছর পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকাজে ব্যবহার হয়নি নৌযান দুটি। রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে একটি মাটিতে দেবে গেছে, অন্যটি নদীতে অর্ধডুবন্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরই মধ্যে বোট দুটির মূল্যবান কিছু যন্ত্রাংশও চুরি হয়ে গেছে।
শেরপুরের সদর, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর নিম্নাঞ্চল ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় প্রতিবছরই পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে থাকে। বর্ষায় এসব এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধারকাজে গতি আনতে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ‘বহুমুখী উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজের জন্য নৌযান সংগ্রহ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় বোট দুটি বরাদ্দ দেওয়া হয়।
‘গজনী-১’ ও ‘গজনী-২’ নামের প্রতিটি বোটের দৈর্ঘ্য ৫৪ ফুট, প্রস্থ সাড়ে ১২ ফুট এবং ধারণক্ষমতা ৮০ জন। কিন্তু বর্তমানে সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও দশানী নদীর মোহনায় অযত্নে পড়ে রয়েছে নৌযান দুটি। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে থাকায় বোটে মরিচা ধরেছে। একটির বড় অংশ কাদামাটিতে দেবে গেছে, অন্যটি নদীতে অর্ধেক ডুবে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার সময় ছোট নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে পারাপার হতে হয়। অথচ উদ্ধারকাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া বড় দুটি বোট কখনো কাজে লাগতে দেখেননি তারা। তাদের অভিযোগ, বোট দুটি সচল থাকলে বন্যার সময় অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো।
জানা গেছে, শুরুতে নৌযান দুটি পরিচালনা ও দেখভালের জন্য মাস্টাররোলে দুজন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তারা দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর থেকেই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে বোট দুটি।
সাবেক বোটচালক সাইদুল ইসলাম জানান, বেতন না পেয়ে বাধ্য হয়ে চাকরি ছাড়তে হয়েছে। নিয়মিত চালানো ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সময়মতো সংস্কার করা না হলে বোট দুটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে যেতে পারে।
আরেক চালক সমেশ মারাং সাংমা জানান, নৌযান সচল রাখতে নিয়মিত তদারকি ও সার্ভিসিং প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জনবল দেওয়া হলে বোট দুটি আবারও উদ্ধারকাজে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব।
কামারেরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আরজু বলেন, বোট দুটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে বোট দুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্যোগপ্রবণ শেরপুরে মানুষের জীবন রক্ষায় কোটি টাকা ব্যয়ে সংগ্রহ করা বোট দুটি এভাবে পড়ে থাকায় সরকারি অর্থের ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করে নৌযান দুটি পাহাড়ি ঢল ও বন্যাকবলিত মানুষের কাজে লাগানো হবে।