ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকালে ইসলামী যুব আন্দোলনর নেতাকর্মীরা। © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও স্থানীয় রিকশা গ্যারেজ মালিক জাহিদ হাসান বুলবুল (৪৫) হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেন। পরে সকাল পৌনে ১১টার দিকে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।
অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলে তারা অবস্থান প্রত্যাহার করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি সালেহনগর শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের রিকশা গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনায় তিনি বন্দর থানায় একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় সিফাতকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় বুলবুলকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে পেয়ে সিফাত ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ফের চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বন্দর থানার ওসি জামাল হোসেন বলেন, ‘প্রধান অভিযুক্ত সিফাতকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।’