সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু © সংগৃহীত
বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু আর নেই। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গোলাম সরোয়ার হিরুর সহধর্মিণী ও কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেগম নুর আফরোজ হেপী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন গোলাম সরোয়ার হিরু। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
১৯৪৯ সালের ৩০ আগস্ট বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন গোলাম সরোয়ার হিরু। স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু হয় কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। পরে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ঐক্যজোট, বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দল পরিবর্তনের কারণে একাধিকবার আলোচনায় এলেও বরগুনার রাজনীতিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল দীর্ঘদিনের।
২০১৩ সালে বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পরে ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় আবারও আলোচনায় আসেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন গোলাম সরোয়ার হিরু। সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী ও সাহসী রাজনীতিক। যদিও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনারও মুখোমুখি হয়েছেন।
গোলাম সরোয়ার হিরু পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।