প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পুকুর থেকে আব্দুল হামিদ (৭৩) নামের এক বৃদ্ধের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের ধারণা ছিল তিনি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন।
রবিবার (১৯ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার ঔটি বহুলী মধ্যপাড়া গ্রামের জনৈক নাদিম মিয়ার পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। নিহত আব্দুল হামিদ ওই গ্রামের মৃত সদর শেখের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ব্যক্তিগত কেনাকাটার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বহুলী বাজারের উদ্দেশে রওনা হন আব্দুল হামিদ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তেমন কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তাদের ধারণা, বাজারে হয়ত কোথাও বসে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা উপভোগ করছেন তিনি।
তবে খেলা শেষ হওয়ার পর ঘটে বিপত্তি। বহুলী বাজার থেকে খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিবেশী যুবক আতিক মিয়া স্থানীয় নাদিম মিয়ার পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখেন। রাতের অন্ধকারে পুকুরে লাশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত বাড়িতে ছুটে যান এবং তার বাবাকে বিষয়টি জানান। পরে আতিকের বাবা ও স্থানীয় অন্যান্য লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসেন এবং সেটি নিখোঁজ আব্দুল হামিদের বলে শনাক্ত করেন।
খবর পেয়ে নিহতের ছেলে জজ মিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পিতার লাশ শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তিনি তার বাবার মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে, পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মৃতদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করি। বৃদ্ধের মৃত্যুর বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের বা আত্মীয়-স্বজনদের কোনো ধরনের সন্দেহ বা অভিযোগ ছিল না। তাই তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই লাশটি বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।