ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হচ্ছে © সংগৃহীত
সরকার জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম কমালেও কক্সবাজারের রামু উপজেলার বিভিন্ন রুটে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়ায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি। আগের বর্ধিত ভাড়াই আদায় করার অভিযোগ তুলে ভাড়া পুনর্নির্ধারণসহ ৫ দফা দাবিতে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ যাত্রীরা।
সাজ্জাদ হোসেন অভির নেতৃত্বে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি নিরসন ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, অতীতে জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে রামু থেকে কক্সবাজার, ঈদগাঁও, মরিচ্যা ও গর্জনিয়াসহ বিভিন্ন রুটে সিএনজি ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সরকার জ্বালানির মূল্য কমালেও চালকরা এখনো আগের বাড়তি ভাড়াই আদায় করছেন। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বর্তমান জ্বালানির মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিএনজি ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, প্রশাসনের উদ্যোগে মালিক-শ্রমিক ও যাত্রী প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সভা করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, প্রতিটি সিএনজিতে অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন এবং যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণে কার্যকর মনিটরিং সেল বা হটলাইন চালু করা।
স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আগামী সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় সাজ্জাদ হোসেন অভি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া বাড়ানো হলেও দাম কমার পরও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি আর মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
স্থানীয় যাত্রীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত হলে জনভোগান্তি অনেকটাই কমবে।