এক জেলে ধরা পড়া দুটি ‘লায়ন ফিশ’ © সংগৃহীত
দেখতে যেন কোনো রাজকীয় ফুল। কিন্তু রূপের আড়ালে লুকিয়ে আছে তীব্র বিষ! বঙ্গোপসাগরের গভীরে জাল ফেলে তেমনই এক অদ্ভুত সুন্দর অথচ ভয়ংকর ‘লায়ন ফিশ’ বা সিংহ মাছের দেখা পেয়েছেন কুয়াকাটার এক জেলে। তাও আবার একটি নয়, একসঙ্গে দুটি!
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য বন্দরের ‘মায়ের দোয়া ফিশ’ আড়তে মাছ দুটি নিয়ে আসা হলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বিরল ও আকর্ষণীয় এই মাছ দুটি দেখতে আড়তে ভিড় জমান উৎসুক জনতা। স্থানীয়ভাবে এটি ‘রঙ্গিলা’ বা ‘কুরা মাছ’ নামেও পরিচিত।
জেলে আসাদ মাঝির জালে ধরা পড়া এই লায়ন ফিশ দুটির মোট ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম। মাছ দুটির শরীরজুড়ে রয়েছে রঙিন ডোরাকাটা দাগ এবং ডানা মেলে থাকা পাখির মতো লম্বা, ধারালো কাঁটাযুক্ত পাখনা।
অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে জেলে আসাদ মাঝি বলেন, ‘গত পরশু কুয়াকাটা উপকূলের গভীর সাগরে জাল ফেলার পর অন্য মাছের সাথে এই দুটিও উঠে আসে। প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ কোনো মাছ। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখি এর অদ্ভুত রঙ আর কাঁটার মতো পাখনা। দেখতে অসম্ভব সুন্দর হলেও শুনেছি এগুলো প্রচণ্ড বিষাক্ত।’
মাছ দুটি নিজের সংগ্রহে নিয়েছেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. ছগির আকন। তবে এগুলো খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগেও এই বন্দরে একটি লায়ন ফিশ পাওয়া গিয়েছিল বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লায়ন ফিশের বৈজ্ঞানিক নাম টেরোইস ভলিট্যান্স বা টেরোইস মাইলিজ। এ মাছ ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির অত্যন্ত দক্ষ এক শিকারি। এর রাজকীয় চেহারার কারণে একে ‘সিংহ মাছ’ বলা হলেও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে এটি ‘রঙিন আতঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত।
এই মাছের ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, লায়ন ফিশের পাখনার কাঁটায় থাকে নিউরোটক্সিক বিষ। কোনো মানুষ অসাবধানতাবশত এই কাঁটার সংস্পর্শে এলে তীব্র যন্ত্রণা, শরীর ফুলে যাওয়া এবং এমনকি শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ মানুষ বা জেলেদের খালি হাতে এই মাছ স্পর্শ করা একেবারেই উচিত নয়।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, লায়ন ফিশের পাখনায় থাকা বিষ মানুষের শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাগরে বা বাজারে এই মাছ পাওয়া গেলে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।