কক্সবাজারের সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে © টিডিসি
কক্সবাজার জেলায় টানা বৈরী আবহাওয়ার পর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে জেলার সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার (ডেঞ্জার লেভেল) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানির স্তর দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। আগামীকাল থেকে আবহাওয়ার আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের এক বিজ্ঞপ্তিতে আজ শনিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলায় মোট ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল সারা দিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টিপাত ছিল তুলনামূলক কম। আজ সকাল ৬টা থেকে ইতোমধ্যে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা স্টেশনে মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা ৫.৮০ মিটার হলেও শনিবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫.৫৬ মিটার, সকাল ৯টায় তা কমে ৫.৪৩ মিটার এবং সকাল ১০টায় আরও নেমে ৫.৪১ মিটারে দাঁড়ায়।
রামু উপজেলার বাকখালী নদীতে বিপৎসীমা ৫.৭৯ মিটার। সেখানে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৩.৯৩ মিটার, যা সকাল ৯টায় কমে ৩.৫৫ মিটারে নেমে আসে।
অন্যদিকে কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশিখালী স্টেশনে বিপৎসীমা ৪.৩৯ মিটার হলেও সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১.২১ মিটার এবং সকাল ৯টায় তা ১.৯৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এ নদীতেও পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং সার্বিকভাবে পানির স্তর দ্রুত কমছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতির আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।