রংপুরের পীরগঞ্জ
রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম © টিডিসি ফটো
রংপুর জেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১২৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৬৪টি প্রকল্পই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রশাসকের নিজ উপজেলা পীরগঞ্জে। অপরদিকে জেলার বাকি সাতটি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৬৩টি প্রকল্প। এ নিয়ে জেলা জুড়ে বৈষম্যমূলক বরাদ্দের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অর্থবছরে রংপুর জেলা পরিষদের অনুকূলে এডিপি বরাদ্দকৃত অর্থের সাশ্রয়কৃত ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা দ্বারা চলতি বছরের ১৭ মে জেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১২৭টি প্রকল্প টেন্ডার ও প্রকল্প কমিটি (পিআইসির) মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১২৭টি প্রকল্পের মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা ৬৪টি। যা মোট প্রকল্পের অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে বদরগঞ্জ উপজেলায় ১টি, মিঠাপুকুর উপজেলায় ৬টি, কাউনিয়া উপজেলায় ১১টি, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৮টি, পীরগাছা উপজেলায় ১৩টি, তারাগঞ্জ উপজেলায় ৬টি, সদর উপজেলায় ৬টি ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১২টি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার অন্যান্য উপজেলার উন্নয়ন চাহিদা থাকা সত্ত্বেও একটি উপজেলাকে অধিকাংশ প্রকল্প দেওয়ায় উন্নয়ন বণ্টনে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত চাহিদা ও এলাকার বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
এদিকে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় তার নিজ উপজেলায় অধিকাংশ প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক জানান, জেলা পরিষদে সাইফুল সাহেব প্রশাসক হওয়ার পর থেকেই দলীয় লোকজনের মাধ্যমেই অধিকাংশ প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় নাম সর্বস্ব বরাদ্দ দিয়ে তার নিজ উপজেলায় একচেটিয়া বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রশাসকের চেয়ারে থাকার নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা রিপোর্টের কোনো বিষয়েই না। আক্তার হোসেন নিজের এলাকার জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছে। সজিব ভুঁইয়া ৩০০ কোটি নিয়ে গেছে। আমাদের সব জায়গায় গেছে, ব্যালেন্স আছে আমাদের। এজন্য মানুষ কাজ করতে চায় না। ঘুষ খাচ্ছি কিনা এটা নিয়ে নিউজ করেন। এটা কোনো নিউজ না। এটা প্রতিবন্ধকতার নিউজ। টাকা খাচ্ছি কিনা এটা নিউজ করে দেখান। তাহলে আপনাকে অ্যাওয়ার্ড দেবো।