নিজ মেয়েকে ত্যাজ্য করার ঘোষণা © সংগৃহীত
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১০ নং শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শিল্পপতি দসিজুল হক আনিসকে নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিজ মেয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ বাবা নিজের মেয়েকে 'পারিবারিকভাবে ত্যাজ্য' ঘোষণা করেছেন।
এই ঘটনার জের ধরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিছ এক লিখিত ঘোষণায় উল্লেখ করেন, তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা ও জামাতা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাঁর সম্মানহানি করছে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছে। তাই তিনি তাদেরকে পারিবারিকভাবে ত্যাজ্য করছেন এবং তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মূলত জামাইয়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার দাবিকে কেন্দ্র করেই বাবা-মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। কন্যা ও জামাতা বারবার গাড়ি কেনার কথা বললেও তা পূরণ করেননি শ্বশুর আনিছ। এর জের ধরেই সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় এসে এই পারিবারিক কলহ আরও প্রকট রূপ নেয়। কন্যা ও জামাতা আনিছের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনাটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর শান্তিরাম ইউনিয়নজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মো. আব্দুল লতিফ ও আব্দুল হাই নামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাবা-মেয়ের সম্পর্ক এমন কঠোর সিদ্ধান্তে আসা উচিত হয়নি। পরিবারের বিষয়গুলো পরিবারের ভেতরেই মীমাংসা করা যেত, এখন দু'পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রফিকুল ইসলাম নামের একজন স্থানীয় ব্যক্তি এবং ইউপি সদস্য প্রার্থী শাহিনুর রহমান মনে করেন, নির্বাচনী উত্তাপে পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো এভাবে জনসমক্ষে আসা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। উভয় পক্ষের উচিত একসাথে বসে কথা বলা। অনেকেই বাবার এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন—সন্তান যদি বাবার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়, তবে বাবা এমন সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন।
এই বিষয়ে পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান বলেন, ইসলামি আইন ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তানকে 'ত্যাজ্য' করার কোনো বিধান নেই। এটি সম্পূর্ণ সামাজিক ও মানসিক বিষয়, যার আইনি বৈধতা নেই বললেই চলে। তবে এটি পারিবারিক সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী ফাটল সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে সমাজকর্মী রোজিনা আক্তার বলেন, এ ধরনের ঘোষণা শুধু মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাবা-মেয়ের মধ্যে থাকা দ্বন্দ্ব যদি আড়ালেই থাকত, তাহলে এলাকায় এমন সমালোচনার মুখে পড়তে হতো না। তিনি উভয় পক্ষকেই শান্ত থাকার পরামর্শ দেন।
স্থানীয় সুধী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এই পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় এগিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে। তাঁরা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে একটি সমঝোতার চেষ্টা করা হবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। কন্যা সুরাইয়া আক্তার জুই ও তাঁর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।