নেত্রকোনার কেন্দুয়া
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া জোনাল অফিসের সামনে স্থানীয় লোকজন © টিডিসি
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় টানা বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এবং ২৮ জুন সকাল আটটায় আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডান ফুটবল বিশ্বকাপ ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকায় উত্তেজিত ফুটবলপ্রেমীরা নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া জোনাল অফিসে ভাঙচুর করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল। রবিবার (২৮ জুন) সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডানের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। তাদের দাবি, এরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে একপর্যায়ে জোনাল অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, কেন্দুয়া উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৬ জন। উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ৯৪ হাজার। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কেন্দুয়ায় মোট ১২টি ফিডার সচল রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দুয়া এলাকায় ৮টি এবং রামপুর এলাকায় ৪টি ফিডার রয়েছে। যদিও কাগজে-কলমে ফিডারের সংখ্যা ১৩টি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৪ নম্বর ফিডারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। কেন্দুয়ায় যে ৮টি ফিডার রয়েছে, তার মধ্যে বর্তমানে ৬টি ফিডারই বন্ধ রয়েছে। ময়মনসিংহ গ্রিডের মাধ্যমে নেত্রকোনায় হয়ে কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ‘অফিস ভাঙচুরের ঘটনাটি মৌখিকভাবে থানাকে অবহিত করা হয়েছে। তা ছাড়া আমাদের যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। বরাদ্দ অনুযায়ীই গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।’
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’