যশোরের সমাজসেবা অধিদপ্তরের সেই চার কর্মকর্তা এবার সাসপেন্ড

০৯ জুন ২০২৬, ০২:১০ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম’ ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উপকারভোগী বাছাইয়ে গাফিলতির অভিযোগে অভিযুক্ত সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের চার কর্মকর্তাকে এবার সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর আগে তাদের যশোর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

গত ১৬ মে যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের সম্ভাব্য উপকারভোগী হিসেবে ১ হাজার ৯৮০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। 

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজকর্মীদের মাধ্যমে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এর দুই দিন আগে ১৪ মে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) একটি প্রতিবেদন জমা হয়, যেখানে তালিকাভুক্তদের মধ্যে অন্তত ৬২ জনকে ‘সচ্ছল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এই কার্যক্রমে এনএসআই সংযুক্ত হয়েছিল। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এই অসংগতির কথা জানামাত্র সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালককে (ডিডি) অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন, কিন্তু সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিডি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ব্যর্থতাকে ‘গাফিলতি’ হিসেবে দেখছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। উল্লিখিত অনুষ্ঠানের কয়েক দিনের মাথায় গত ২১ মে সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ চার অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারা হলেন উপপরিচালক হারুন অর রশীদ, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও ইতি দত্ত সেন এবং সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান তুহিন।

গত ৬ জুন এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপপরিচালক হারুন অর রশীদ বলেছিলেন, তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ নয়, স্বাভাবিক বদলি করা হয়েছে। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেছিলেন, উল্লিখিত কর্মকর্তাদের স্ট্যান্ড রিলিজ নাকি স্বাভাবিক বদলি করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন। অফিস অর্ডার না দেখে মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন। কর্মকর্তাদের এসব মন্তব্যসংবলিত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়।

কিন্তু সোমবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অভিযোগের কারণে উল্লিখিত কর্মকর্তাদের গত ২১ মে বদলিপূর্বক স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। শুধু তা-ই নয়, ৭ জুন তাদের সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।

এদিকে ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আড়াই হাজার টাকা করে ঢুকে যাওয়ার কথা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলছেন, ওই ৬২ নারীর মধ্যে ৪২ জন বিকাশ, ১৬ জন নগদ এবং চারজন ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবধারী। তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ক্যাশ আউট হয়নি। ওই টাকা বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় আছে এবং বিধি মোতাবেক সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়া হবে।

নেত্রকোনার তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এই সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে ‘কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা’ গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ফ্যামিলি কার্ডের সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতে যশোরে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৫৪ জন সমাজকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

সদরঘাটে শ্রমিকদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংঘর্ষে যুবক নিহত
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
খুকৃবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
‘এমবিবিএস’ পরিচয়ে চিকিৎসা, ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরি…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
শেখ মুজিবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতাকে ‎‘জোর করে…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
এনইউবি ফার্মা ডিবেট ক্লাবের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত 
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
জামায়াত-শিবির বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা …
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬