আত্মহত্যার আগে লাইভে এসে স্বামী
কন্যার সঙ্গে লিমন মোল্লা ওরফে হৃদয় © সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ফেসবুক লাইভে এসে লিমন মোল্লা ওরফে হৃদয় (২৬) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গভীর রাতে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের উমাজুরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হৃদয় উমাজুরি গ্রামের সিরাজ মোল্লার ছেলে। তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন।
আত্মহত্যার পূর্বে লাইভে এসে লিমন মোল্লা বলেন, ‘‘এই আল্লাহর পবিত্র কোরআন (সাক্ষী), আমি ওকে বিয়ে করছি, ও যেমনই হোক আমি ওরে রাখতাম। ছাড়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। আমি কোনো কথার বলার সাহস পাইতাম না। আমি কোরআন ছুয়ে কইলাম, ও অন্ধ অবস্থায় থাকতো, প্রতিবন্ধী অবস্থায় থাকতো, আমি কখনও ছাড়তাম না। কিন্তু ওর রিজনটা হচ্ছে মেয়েটা (কন্যা সন্তান) ওর পথের কাটা। তিনটা ঘন্টা হইছে, এর আগে পিছে অনেক কিছু হইছে, এই তিনটা ঘন্টা তারে একটা ম্যাসেজ দিছি, সে কাজে ব্যস্ত। বললাম, ফ্রী হইলে আমারে একটা কল দিও, বাসায় যেয়ে কল দিও। এরপর আমার ফোনে এমবি নাই, আমি অনেক কষ্ট করে এমবি ভরছি। তার কথা হচ্ছে ‘তুই কে? কেন কৈফিয়ত দিমু, কাজে না বাইরে?’ আত্মহত্যা মানুষ সহজে করে না।‘’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নিজ ঘরে একা থাকা অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে আসেন। পরে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হৃদয় এক কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। তার মেয়ে বর্তমানে নানীর সঙ্গে পৌর সদরের কুঠিবাড়ি এলাকায় বসবাস করছে।
নিহতের বাবা সিরাজ মোল্লা জানান, ঘটনার আগে হৃদয় ঢাকায় অবস্থানরত তার স্ত্রী উর্মির সঙ্গে কথা বলেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত নানা সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।