নেত্রকোনা সদর উপজেলার ফচিকা গ্রামে ‘ঈশা খাঁ’কে লালন-পালন করেন মালিক খায়রুল © টিডিসি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নেত্রকোনার বিভিন্ন খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। রাসায়নিক ও ভেজালমুক্ত খাবারে বড় হওয়া এসব পশু নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহও বেড়েছে কয়েক গুণ। জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিনই জমে উঠছে বেচাকেনা, দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা আসছেন পছন্দের পশু কিনতে।
এরই মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নেত্রকোনা সদর উপজেলার ফচিকা গ্রামের বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘ঈশা খাঁ’। ফ্রিজিয়ান জাতের বাহারি এই গরুর ওজন প্রায় ৪৩ মণ বা (১৭২০ কেজি)। প্রায় ৬ ফুট উচ্চতা ও ৯ ফুট লম্বা এই বিশাল ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিনই খামারে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
গরুটির মালিক কৃষক খায়রুল মেম্বার বলেন, ‘কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিক খাদ্যে প্রায় কয়েক বছর ধরে ঈশা খাঁকে লালন-পালন করা হয়েছে। প্রতিদিন এর খাবারের পেছনে খরচ হয় প্রায় ১২ থেকে ১৪শ টাকা। গত বছর গরুটির দাম হাঁকা হয়েছিল সাড়ে ৯ লাখ টাকা। এবার ১৬-১৮ লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশা খাঁ বর্তমানে জেলার সবচেয়ে বড় ষাঁড়। এবার নেত্রকোনার ১০টি উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার খামার ও কৃষকের হাতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৮টি গরু, ছাগল, মহিষসহ বিভিন্ন ধরনের গবাদিপশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার। সেই হিসেবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ১২ হাজার পশু রয়েছে। জেলার ১০ উপজেলায় ১১৩টি স্থানে পশুর হাট বসছে এবং প্রতিদিনই চলছে জমজমাট বেচাকেনা।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় খামারিদের উৎসাহ ও নিরাপদ পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণের কারণে এবার জেলার কোরবানির পশুর বাজারে ইতিবাচক সাড়া মিলছে।