একই পরিবারে ৪ প্রতিবন্ধী, জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন

০৪ মে ২০২৬, ০৫:২১ PM
মো. আতিয়ার মোল্লা, তার স্ত্রী রহিমা বিবি এবং তাদের সন্তান আশা আক্তার ও মো. বাদল মোল্লা

মো. আতিয়ার মোল্লা, তার স্ত্রী রহিমা বিবি এবং তাদের সন্তান আশা আক্তার ও মো. বাদল মোল্লা © টিডিসি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একই পরিবারের চারজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সদস্য জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। উপার্জনের কোনো সুযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্য ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি, এমনকি মৌলিক চাহিদা পূরণেও তারা নির্ভর করছেন প্রতিবেশীদের সহায়তার ওপর।

পরিবারটি উজানচর ৩ নম্বর ওয়ার্ড মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামের মো. আকবর মোল্লার বড় ছেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মো. আতিয়ার মোল্লা (৪২) , তার সহধর্মিণী মোছা. রহিমা বিবি (৩৯), তাদের সন্তান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়ে আশা আক্তার (২০), ছেলে মো. বাদল মোল্লা (১৬)।

সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ঘর এবং সেই ঘরে নেই তেমন কোনো আসবাব। রয়েছে একটি কাঠের চৌকি। ঠিদ্র ও বিভিন্ন স্থানে জং ধরে যাওয়া টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঝরছে। বৃষ্টির পানি ঘরের অধিকাংশ জায়গায় জমে আছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে নাবালক সন্তান দুজনকে নিয়েই এক‌ই চোকিতে থাকতে হয় তাদের। প্রতিবন্ধী আতিয়ার মোল্লাকে প্রশ্ন করতে গেলে গেলে তিনি অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন না। এমনকি অধিকাংশ কথা বুঝতে পারেন না তিনি। পরিবারের বাকি তিনজনের অবস্থা এক‌ই রকম।

প্রতিবন্ধী আতিয়ারের বাবা আকবর মোল্লা জানান, আতিয়ার জন্মের সময় থেকেই কানে একটু কম শুনতেন। বড় হ‌ওয়ার পর বুঝতে পারলাম ওর বুদ্ধিও কম। আতিয়ার ছোট বেলা থেকেই মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে কোথাও চলে যেতেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি আনতে হতো। আবার অনেক সময় একা একাই চলে আসতেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘নাবালক হ‌ওয়ার পর মনে করলাম, ওকে বিয়ে দিলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। বিয়ে দিয়ে পরলাম আর এক বিপদে। যার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে আনলাম সে ওর থেকেও আরও বেশি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ওদের গর্ভে জন্ম নেয়া দুটি সন্তান‌ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।’

প্রতিবেশী রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম বলেন, ‘পরিবারের চারজনের বুদ্ধি কম থাকায় কেউ ওদের কাজে নিতে চাই না। কাজ না থাকায় পরিবারটি মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রতিবেশীরা যা দেয়, তাই খেয়েই জীবন-যাপন পার করছেন পরিবারটি।’

স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমি বেশ কয়েক বছর এই এলাকায় ইমামতি করার সুবাদে এই পরিবার সম্পর্কে সব জানি। পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী। মসজিদের পাশেই ওদের বাড়ি হ‌ওয়ায় আতিয়ারের দুটি সন্তান আমার কাছে আরবি পড়তে আসত। বুদ্ধি কম থাকায় পড়াশোনা করতে পারেনি। পরিবারের কেউই উপার্জন করতে পারে না। মাঝেমধ্যে আমিও আমার খাবার থেকে ওদের খেতে দেয়। পরিবারটির থাকার ঘরটি জরাজীর্ণ। এখন বৃষ্টির দিন তাদের থাকার ঘরটি মেরামতের প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সরকারিভাবে পরিবারের চারজনের প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সকলের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, ‘পরিবারটির বিষয়ে আমি শুনেছি। যত দ্রুত সম্ভব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে জরাজীর্ণ ঘর নতুন টিন দিয়ে মেরামত করা হবে।’

তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

১০০–১৪০% বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ ছিল পে কমিশনের, পর্যালোচনায় ন…
  • ০৪ মে ২০২৬
গ্রামের বাড়িতে লিমনের লাশ, মাগরিবের পর শেষ বিদায়
  • ০৪ মে ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের ২ রেমিট্যান্স গ্রাহক পেলেন গিয়ার বাই-সাইকেল
  • ০৪ মে ২০২৬
বিনিয়োগ আকৃষ্টে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজের নির্দেশ প্র…
  • ০৪ মে ২০২৬
নাহিদ রানাসহ পিএসএলে কে কোন পুরস্কার জিতলেন
  • ০৪ মে ২০২৬
এনসিপির জাতীয় কনভেনশনে যা হলো
  • ০৪ মে ২০২৬