বজ্রপাতে সাত জেলায় একদিনে ১৪ জনের মৃত্যু

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৩ PM
বজ্রপাতে সারাদেশে ১৪ জনের মৃত্যু

বজ্রপাতে সারাদেশে ১৪ জনের মৃত্যু © সংগৃহীত

বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজন মারা গেছেন।

গাইবান্ধা:
সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজাসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রাম, ফুলছড়ির দেলুয়ার চর ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— ফুয়াদ হাসান (৩৫), রাফি চৌধুরী (৮) ও মিজানুর রহমান (১৮)। ফুয়াদ হাসান সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ছেলে, রাফি চৌধুরী ছোটন চৌধুরীর ছেলে এবং মিজানুর রহমান নবির হোসেনের ছেলে। নিহত রাফি ও মিজান সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শামীম (১৭), তিনি একই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিহত মোহাম্মদ নাব্বার আলী (৬৫) সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের বাসিন্দা ও মানিক মিয়া ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়ার চরের বাসিন্দা। 

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশে একটি টিনের ঘরে গরু নিয়ে আশ্রয় নেন ফুয়াদ হাসান। এ সময় সেখানে রাফি, মিজান ও শামীমও আশ্রয় নেন। হঠাৎ বজ্রাঘাত হলে ঘটনাস্থলেই ফুয়াদ হাসানের মৃত্যু হয় এবং অপর তিন জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফি চৌধুরী ও মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়।

ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘বজ্রাঘাতের ঘটনায় প্রথমে একজন মারা যান এবং আহত তিন জনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।’

অপরদিকে বিকালে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মোহাম্মদ নাব্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম দেলুয়ার চরে বজ্রাঘাতে মানিক মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টির সময় ঘোড়ার গাড়িতে করে ভুট্টা নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। 

পাশাপাশি ফুলছড়ি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আলী আকবর (৭০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। বিকালে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের বুলবুলির চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সিরাজগঞ্জ: 
তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে এক কৃষক ও যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বজ্রপাতে আব্দুল হামিদ (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‌‘বিকালে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন আব্দুল হামিদ। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।’

অপরদিকে, বিকাল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান এলাকায় বজ্রাঘাতে হাসান শেখ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। হাসান শেখ ওই এলাকার আব্দুল হালিম শেখের ছেলে। নিজ জমিতে কাটা ধান এক পাশে জড়ো করছিলেন হাসান। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রপাতে হাসান শেখের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

ঠাকুরগাঁও: 
ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)। বেলা ২টার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন হঠাৎ বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

দুপুরে বৈরামপুর এলাকায় জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

জামালপুর: 
জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও চার জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। বিকালে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একজন ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়।

তারা হলেন- মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ রাজীবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলী (৪৫)। আহতরা হলেন- মেলান্দহের হাজরাবাড়ী এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম (২৫), সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার নুর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৪) ও একই এলাকার মোহাম্মদ রুমান মিয়ার ছেলে মো. শাওন মিয়া (২৫) এবং সদর উপজেলার নাওভাঙ্গা এলাকার সুমন মিয়ার মেয়ে সুখী (১৪)। আহতদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালে হঠাৎ জামালপুরে বৃষ্টিসহ বজ্রপাতে শুরু হয়। হাজরাবাড়ি এলাকায় বাড়ির ওঠানে থাকা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন মর্জিনা বেগম। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

অপরদিকে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় ফসলের মাঠে কাজ করছিলেন হাসমত আলী। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে শুরু হয়। এতে হাসমত আলী, আনোয়ার হোসেন ও মো. শাওন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসমত আলীর মৃত্যু হয়।

বগুড়া: 
গাবতলীতে বৃষ্টির মধ্যে ধান গাছে পলিথিন দেওয়ার সময় বজ্রপাতে সুমন মিয়া (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোনারায় ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রাজা মন্ডল এ তথ্য জানিয়েছেন। 

সুমন মিয়া উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে। নিহতের ভাই ও সোনারায় ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রঞ্জু মিয়া জানান, সুমনকে উদ্ধার করে বগুড়া টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পঞ্চগড়: 
আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে মো. সোহরাওয়ার্দী (২২) নামের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় একটি চা-বাগানের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩) নামের আরও দুই চা-শ্রমিক।

নিহত সোহরাওয়ার্দী ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে। তিনি মাত্র আট দিন আগে বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। আহত মো. মোস্তফা ও জাহেরুল ইসলাম একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে মো. মোস্তফাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ আলম কুদ্দুস বলেন, ‘সকালে সোনাপাতিলা এলাকায় শের আলী নামের এক চাষির চা-বাগান থেকে চা-পাতা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শ্রমিক। এ সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে সোহরাওয়ার্দী মারা যান। ঘটনার সময় তার সামান্য দূরে থাকা অপর দুই শ্রমিক আহত হন। মারা যাওয়া শ্রমিক সোহরাওয়ার্দী আট দিন আগে বিয়ে করেছেন।’

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।’

নাটোর:
সিংড়ায় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামের এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সম্রাট হোসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে। সম্রাটসহ কয়েকজন মিলে কেটে রাখা ধান গ্রামে আউয়ালে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে সম্রাট ধানের বোঝা মাথা থেকে নামিয়ে পাশের এক ঘরে আশ্রয় নেন। হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ট্যাগ: বজ্রপাত
কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা প্রদর্শনী স্থগিত
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
জামায়াত এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্ক…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
একনেকে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রীর মরদেহের পাশে চিরকুট, বাবার মামলায় ঢাবি শিক্ষক গ্রেপ…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
মহাখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য,…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬