তালপাতার পাখা © সংগৃহীত
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় তীব্র গরমের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গরমে মানুষ যখন হাঁসফাঁস করছেন, তখন সঙ্গী হয়ে একটু স্বস্তি দিচ্ছে ঐতিহ্যবাহী তালপাতার হাতপাখা। দীর্ঘদিন পর উপজেলার ঘরে ঘরে ফিরে এসেছে হাতপাখার সেই পরিচিত বাতাস।
উপজেলার সস্তার বাজার, ভৈরবা বাজার, সামন্তা বাজার, জিন্দানগর বাজার, খালিশপুর বাজার ও পুড়াপাড়া বাজারে তালপাতা, বাঁশ ও রঙিন কাপড়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের হাতপাখা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ছোট-বড় নানা আকার ও রঙের পাখায় সাজানো দোকানগুলো। সেগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও রয়েছে চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুতের অনিশ্চয়তার এই সময়ে নিম্নআয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পরিবার—সবার কাছেই সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে হাতপাখা নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া এই নীরব সঙ্গীটি আবারও মহেশপুরের মানুষের জীবনে নিজের জায়গা ফিরে পেয়েছে।
গোপালপুর গ্রামের ক্রেতা বদরুজ্জামান বলেন, ‘এখন এমন অবস্থা যে বিদ্যুতের কোনো গ্যারান্টি নেই। এই আছে তো এই আবার নেই। আর বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে থাকা যায় না। তাই পরিবারের সবার জন্য কয়েকটি হাতপাখা কিনেছি।’
এখন হাতপাখা ছাড়া উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন ফতেপুর বেড়ের মাঠ এলাকার মো. শাহীন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনোমতে একটু সহ্য করতে পারলেও এই গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট বেশি হয়। পাখা ছাড়া এখন কোনো উপায় নেই। তাই কয়েকটা কিনে নিলাম।’
উপজেলার নাস্তি এলাকার শাকিব মোড়ের পাখা প্রস্তুতকারক শ্রী বিকাশ জানান, এবার শুধু গরমই নয়, বিদ্যুতের দুর্ভোগও মানুষকে বাধ্য করছে পুরোনো এই উপকরণের দিকে ফিরতে। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে পাখা তৈরি করি, বিকেলের মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়।’
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পাখা বিক্রি করছেন শ্রী শৈলেন দাস। তিনি জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর হাতপাখার চাহিদা অনেক বেশি। তার মতে, মানুষ হাতপাখার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে উপলব্ধি করছে।