সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। © টিডিসি
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এবার ভেসে এসেছে একটি মৃত ইরাবতী ডলফিন। প্রায়ই সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ ভেসে আসায় উপকূলীয় পরিবেশের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা বাড়তে থাকায় সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নিয়ে শঙ্কা জোরদার হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে জোয়ারের পানির সঙ্গে ডলফিনটি ভেসে আসে।
এর আগে বুধবার (১৫ এপ্রিল) কুয়াকাটার নিকটবর্তী কাউয়ারচর এলাকার ঝাউবন পয়েন্টে জোয়ারের পানির সঙ্গে ৪০ কেজি ওজনের একটি অলিভ রেডলি কচ্ছপ ভেসে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ছয়টার দিকে জোয়ারের পানির সঙ্গে ডলফিনটি তীরে এসে আটকে যায়। ডলফিনটির শরীরের চামড়া উঠে গেছে এবং পেট ফেটে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বেশ কয়েক দিন আগেই সমুদ্রে এর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি একটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন। গোলাকার মাথা ও ঠোঁটবিহীন গড়ন এই প্রজাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাধারণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অগভীর উপকূলীয় অঞ্চল ও বড় নদীতে এদের বিচরণ দেখা যায়। সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রজাতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে এরা বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী আবুল হোসেন রাজু জানান, অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ এবং নৌযানের অসতর্ক চলাচলের কারণেই এই প্রাণিগুলো অকালে প্রাণ হারাচ্ছে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার এ ঘটনাকে ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সৈকতে বারবার মৃত ডলফিন আসা মানেই সামুদ্রিক পরিবেশের দ্রুত অবনতি ঘটছে। এর কারণ উদ্ঘাটন করে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর ডলফিন রক্ষা কমিটি ও পৌরসভার সহযোগিতায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবেশদূষণ রোধে সেটিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কুয়াকাটা উপকূলে ডলফিন ও কচ্ছপের মতো সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ ভেসে আসার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এটি বিশাল বড় কোনো পরিবেশগত বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা, যা দ্রুত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।