চরফ্যাশনে মাঠ ছেয়েছে সূর্যমুখীতে, হাসছে কৃষকের মুখ

১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৪ PM
সূর্যমুখীর ক্ষেত। চর মাদ্রাজ ইউনিয়নে

সূর্যমুখীর ক্ষেত। চর মাদ্রাজ ইউনিয়নে © টিডিসি

ভোলার চরফ্যাশনে এবার সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুল যেন নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে কৃষিনির্ভর এই জনপদে। ভোজ্যতেলের বিকল্প ও স্বাস্থ্যসম্মত উৎস হিসেবে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বাড়ায় কৃষকরাও দিন দিন এই চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চরফ্যাশনে ৩৭০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০ হেক্টর বেশি। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে তেঁতুলিয়া নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল মুজিবনগর ইউনিয়নে। এ ছাড়া চর মাদ্রাজ, আসলামপুর, হাজারীগঞ্জ, আমিনাবাদ, আবুবকরপুর, ওমরপুর ও ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নেও সূর্যমুখীর চাষ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

কৃষি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সূর্যমুখী ফসল হালকা থেকে মাঝারি লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এবং খরা সহিষ্ণু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের চরাঞ্চলে এটি চাষের বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফলে ভোজ্যতেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য এটি লাভজনক ফসলে পরিণত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বাড়ছে। এতে রয়েছে ভিটামিন-ই, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত এই তেল ব্যবহারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এবার উপজেলায় হাইসান-৩৩, হাইসান-৩৬ চ্যাম্প ও বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২ থেকে ২.৫ মেট্রিক টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকরা লাভের আশা করছেন।

চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সূর্যমুখীর তেল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হওয়ায় আমি নিজেই এক হেক্টর জমিতে চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। বিক্রি না করে পরিবারের সারা বছরের ভোজ্যতেলের জন্য কিছু রেখে দেব।’

মুজিবনগরের কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথমবার উন্নত পদ্ধতিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলন আশানুরূপ হয়েছে। তেলের পাশাপাশি বীজের খৈল পশুখাদ্য হিসেবেও কাজে লাগে।’

আসলামপুরের কৃষক রবি উল্লাহ বলেন, ‘অন্য অনেক ফসলের তুলনায় সূর্যমুখীতে খরচ কম, সেচও কম লাগে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা জানান, ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষি বিভাগ সূর্যমুখী আবাদ সম্প্রসারণে কাজ করছে। এ বছর ২ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় ১ কেজি হাইব্রিড বীজ ও ২০ কেজি রাসায়নিক সার বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করে উন্নত জাতের সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় এবার ফলন খুব ভালো হবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

তারেক রহমানের সঙ্গে এডিটেড ও বিকৃতি ছবি প্রচার, ছাত্রদলের স…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে টেকনোর ‘স্পার্ক ৫০’ সিরিজ উন্মোচন
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপির মনোনয়ন চান দেশের তিন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচন হলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবার কথা ছিল, যে কারণে …
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে বেইলি রোডে নাটক দেখছেন প্রধানমন্ত্রী
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রো-ভিসি ছাড়াই চলছে যে ৯৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
close