দড়ি দিয়ে এক শ্রমিকের হাত বেঁধে রাখা হয়েছে ঘরের আড়ার সঙ্গে © সংগৃহীত
দড়ি দিয়ে এক শ্রমিকের হাত বেঁধে রাখা হয়েছে ঘরের আড়ার সঙ্গে। এ অবস্থায় ওই শ্রমিককে লাঠি হাতে পেটাচ্ছেন একজন। হুমকি দেওয়ার এক ফাঁকে পেটাতে থাকা ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি কোনো জায়গায় মামলা করি না, কোনো জায়গায় সালিশ করি না, আমি নিজের বিচার নিজে করি।’
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের চুঙ্গার গুঁড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
যে ব্যক্তিকে পেটানো হচ্ছিল, তার নাম কালু মিয়া। তিনি একই উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চরবসু বাদামতলী বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। আর তাকে যিনি পেটাচ্ছেন, তার নাম ইসমাইল হোসেন। তিনি ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহের কাজ করেন। তিনি এলাকায় ইসমাইল মাঝি নামে পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের। পুরো সময়েই ইসমাইলকে পেটাতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে ইসমাইল কালুকে কিছু কথা পুনরাবৃত্তি করার নির্দেশ দেন। বাধ্য হয়ে কালু কথাগুলো পুনরাবৃত্তি করেছেন। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ইসমাইল মাঝি কারও জন্য মামলা করে না। কাউকে দিয়ে সালিশ করে না। নিজের সালিশ নিজে করে। নিজের বিচার নিজে করে। মাপ করলেও নিজে করে। আর জীবনে এসব করব না। মাঝির যা ক্ষতিপূরণ এখন দিয়া দেব। ইসমাইল মাঝির সঙ্গে এই কাম কেউ করিস না।’
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কালু মিয়া বলেন, ইটভাটায় কাজে না যাওয়ার কারণে ইসমাইল মাঝি তার সহযোগীদের দিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যান। এরপর হাত রশি দিয়ে বেঁধে আমাকে নির্মমভাবে মারধর করেছেন। একপর্যায়ে আমার পরিবারের কাছে খবর পাঠিয়ে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। কারণ, এতে নাকি তার ক্ষতি হয়েছে। আমি টাকা না দেওয়ায় মারধরের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনায় মামলা করেছি।’
এ ঘটনার পর থেকে ইসমাইল হোসেন পলাতক। তবে তিনি ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে বলেন, চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজের জন্য কালুকে বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কালু এখন আর সেখানে কাজে যাচ্ছেন না। প্রায়ই নানা অজুহাতে কাজ ফেলে চলে আসছেন। তাই কালুকে দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে রেখেছেন তিনি। খুব বেশি মারধর করা হয়নি। ভয় লাগানোর জন্য সামান্য বেত্রাঘাত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ওসি ফরিদুল আলম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শ্রমিক কালু মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এতে ইসমাইল হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।’