অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি © টিডিসি
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিলেটে দেশের প্রথম ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন করলেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর টিলাগড় পয়েন্টে সরকারী ব্যবস্থাপনায় এই প্রথম একটি হাটের যাত্রা শুরু হলো। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এটি পরিচালনা করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের জন্য এটি নতুন হলেও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের হাট চালু আছে। এ ধরনের হাটে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল ও সিন্ডিকেট থাকবে না। ক্রেতা ও বিক্রেতার সরাসরি সংযোগ থাকবে। প্রশাসন এটি দেখাশোনা করবে। আশা করি, এতে জনগণ উপকৃত হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাজার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে চাই। বাজার ব্যবস্থাপনায় এআই জেনারেটেড সিস্টেম চালু করা হবে। এটি কোনো নিয়ন্ত্রণ নয়, নজরদারি এবং খোঁজ রাখার জন্য করা হবে।’
সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। কৃষকের হাট এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি উইন উইন পরিস্থিতি তৈরি করবে। কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে আসবে স্বস্তি আসবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা হবে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কোনো ধরনের কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে।
কৃষি খাতের উন্নয়নে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুজ্জামান বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নুর, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল, শাবিপ্রবির সাবেক রেজিস্ট্রার জামিলুর রেজা চৌধুরীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সুধীজন, প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত স্থানে এই হাটের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ উদ্যোগ সফল হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদনের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে নিরাপদ ও তাজা পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবেন, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।