ঈদে জননিরাপত্তা : যশোর জেলাজুড়ে পুলিশের শতাধিক টিম মাঠে © সংগৃহীত
ঈদ-উল ফিতরকে কেন্দ্র করে যশোরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। উৎসবের আমেজে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘরমুখী মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে পুলিশের শতাধিক টিম মাঠে রয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। বিশেষ করে রাতের নিরাপত্তা ও ফাঁকা শহরের পাহারায় এবার সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যশোর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। শহর ও শহরতলীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলাজুড়ে দিন ও রাতে পুলিশের শতাধিক টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে শহরে রয়েছে চারটি মোটরসাইকেল টিম, ১৪টি ফুট পেট্রোল এবং একাধিক মোবাইল টিম। এছাড়াও প্রতি উপজেলায় দুটি করে মোবাইল টিমের পাশাপাশি রয়েছে একাধিক মোটরসাইকেল ও ফুট পেট্রোল টিম। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বিশেষ নজরদারির কথা জানিয়েছে পুলিশ। রাতভর সকল টিমের তদারকির জন্য ফিল্ডে থাকেন একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা।
সরেজমিন দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি। বিশেষ করে শহরের দড়াটানা, বড়বাজার, নিউ মার্কেট, মণিহার, চৌরাস্তা, চাঁচড়া চেকপোস্ট, রেলজংশন ও কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় পুলিশের তৎপরতা রয়েছে চোখে পড়ার মতো।
গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর ঈদকে কেন্দ্র করে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চুরি ও ছিনতাই কমেছে বলে জানান বারান্দীপাড়ার বাসিন্দা ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ‘ঈদ এলেই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রাতের যশোর ভয়ংকর হয়ে ওঠে। উড়ন্ত ছিনতাইকারীর ভয়ে একসময় আমাদের রাতে সংঘবদ্ধভাবে চলাফেরা করতে হতো। কিন্তু এবারের ঈদে যশোরে এখনো বড় ধরনের কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেনি। চোর আর ছিনতাইকারী চক্রের উপদ্রব নেই বললেই চলে।’
বেজপাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় রাস্তায় পুলিশের উপস্থিতি বেশি দেখছি। বর্তমানে যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যশোরে কোনো সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ থাকবে না। আমরা তার সেই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।’
যশোরকে নিরাপদ রাখতে রোজার শুরু থেকেই পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘২০ রমজান পর্যন্ত আমাদের পরিকল্পনায় ঈদের বাজারকেন্দ্রিক নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঈদবাজারে চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই এবং অজ্ঞানপার্টি রোধে পুলিশের শতাধিক টিম কাজ করেছে।’
‘পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি আমাদের পুরুষ ও নারী সদস্যদের বড় একটি অংশ সাদা পোশাকে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ছিল। জেলা শহর কিংবা উপজেলার বাজারগুলো সর্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকায় এখনো পর্যন্ত ঈদবাজারে বড় কোনো অপরাধ হয়নি’, বলেন এই সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ বলছে, ২০ রমজানের পর থেকে দ্বিতীয় ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। এ সময়ে কেনাকাটার পাশাপাশি ছুটিতে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়ে। ফলে ঈদের আগের এই সময়টা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং।
জেলা পুলিশ বলছে, ঈদে ঘরমুখী মানুষের নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে রাতে যেসব যাত্রী বাস বা ট্রেনযোগে জেলা শহরে আসবেন, তাদের নিরাপত্তায় প্রতিটি বাসস্ট্যান্ড এবং যশোর রেলজংশনে পুলিশের টিম থাকবে। প্রয়োজনে যাত্রীদের পুলিশি পাহারায় নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হবে। কয়েকটি রিকশা ও ইজিবাইক একযোগে যাত্রী নিয়ে নির্দিষ্ট রুটে রওনা হতে পারে। প্রত্যেক রুটে পুলিশের মোবাইল টিমের পাশাপাশি মোটরসাইকেল টিম রয়েছে।
ঈদের ছুটিতে চুরি বা ডাকাতির ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ করে রাতেরবেলার নিরাপত্তাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শহরের প্রবেশপথ যেমন, পালবাড়ি, মণিহার ও মুড়লি মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় নজরদারি চালাচ্ছেন। ঈদের আগে ও পরে যেসব ব্যবসায়ী বড় অঙ্কের নগদ টাকা বহন করবেন, তারা চাইলে পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেবে।
ঈদ উৎসবকে আরও নিরাপদ করতে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা বস্তু চোখে পড়লে তখনই নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছে জেলা পুলিশ।