ঢালাই শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে পিচ © টিডিসি
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে যে সড়ক সংস্কার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, সেটিই এখন এলাকাবাসীর জন্য নতুন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢালাই শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং। কোথাও হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে পিচ এমন দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেই সড়কটির কাজ করা হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলার আবুরকান্দি গ্রামে বিচারপতি মেজবাহ উদ্দিনের বাড়ির সামনে থেকে ওয়াপদা ক্যানাল পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কে সম্প্রতি শুরু হওয়া সংস্কার কাজের এমন চিত্র সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। বর্ষা মৌসুমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠত। অবশেষে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু কাজ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় সেই আশা এখন চরম হতাশায় রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২০০ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ নেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরেই কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরে কাজটির মেয়াদ বাড়িয়ে (এক্সটেনশন) নেওয়া হয়। মেয়াদ বাড়ানোর পরও দীর্ঘদিন কাজ শুরু না করে চলতি বছরে এসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। দেরিতে কাজ শুরুর পরও মানসম্মত কাজ না হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখা হয়নি। বিটুমিন, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ছিল নিম্নমানের। ফলে ঢালাইয়ের কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে মতলব উত্তর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল আনোয়ার বলেন, এখানে কাজের সামান্য ত্রুটি হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ স্থানে মেরামতের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিজভীয়া এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য সহকারী মো. শাহজালাল বলেন, ‘আমার এখানে কাজের কোনো দুই নম্বরি হয়নি, বরং আমি আরও ভালো কাজ করেছি। আপনারা নিউজ করলে কিচ্ছু হবে না।’
ঠিকাদারের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সড়কের বিভিন্ন অংশে একইভাবে কার্পেটিং উঠে যাওয়াই প্রমাণ করে কাজের মান কতটা নিম্নমানের হয়েছে। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো সড়কটি মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
১ কোটি ২৪ লাখ টাকার সরকারি প্রকল্পে এমন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, যথাযথ নজরদারি থাকলে কাজের শুরুতেই এমন ত্রুটি ধরা পড়ত।
উল্লেখ্য, এর আগেও এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।