কব্জির জোরে দুই যুগ ধরে ভাড়া আদায় করছে চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউলের পরিবার

২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২১ PM
ভবনটিতে ‘ডা. হারুনুর রশীদ চৌধুরী ভিলা’ নামটি লেখা থাকলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘মেয়র বিল্ডিং’ নামে বেশি পরিচিত

ভবনটিতে ‘ডা. হারুনুর রশীদ চৌধুরী ভিলা’ নামটি লেখা থাকলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘মেয়র বিল্ডিং’ নামে বেশি পরিচিত © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার-চট্টেশ্বরী রোডের পেছনে অবস্থিত ছয়তলা একটি ভবন ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। ভবনটিতে ‘ডা. হারুনুর রশীদ চৌধুরী ভিলা’ নামটি লেখা থাকলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘মেয়র বিল্ডিং’ নামে বেশি পরিচিত। তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির মালিকানা দলিল, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদন বা ভবনের নকশা-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র নেই। তবু ২৬ বছর ধরে ভবনটি থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করে আসছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা রেজাউল করিম চৌধুরীর পরিবার।

জানা গেছে, ভবনটিতে রয়েছে ১২টি আবাসিক ইউনিট ও ১টি দোকান। দীর্ঘদিন ধরে এটি রেজাউল করিম চৌধুরী পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির দেখাশোনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন তার ছোট ভাই নজরুল করিম চৌধুরী ও সুমন। তারাই নিয়মিত ভাড়া আদায়সহ ভবনের সার্বিক বিষয় দেখভাল করে আসছেন।

পরিচয় গোপন রেখে ভবনটির বিষয়ে জানতে চাইলে দারোয়ান আলমগীর শুরুতে সহজভাবে কথা বলেন। তবে একপর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি কিছুটা সতর্ক হয়ে ওঠেন। তিনি জানান, আগে রেজাউল করিম চৌধুরীর লোকজনই ভাড়া তুলতেন। সরকার পরিবর্তনের পর রেজাউল করিম পলাতক। বর্তমানে নজরুল করিম চৌধুরী ও সুমন ভাড়া আদায় করছেন।

সাবেক মেয়রের ভাই নজরুল করিম বলেন, ১৯৫৬ সালে তাদের বাবা জমিটি কিনেছিলেন। পরে সন্তানদের নামে আমমোক্তারনামা করেন। তিনি দাবি করেন, ২০০৭-০৮ সালে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। বর্তমানে কয়েকজন মিলেই ভবনটি কিনে ভাড়া তুলছেন বলেও জানান তিনি। তবে সেই অংশীদাররা কারা বা কোন কোম্পানি এতে যুক্ত ছিল, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের ক্ষমতাজয়ে থাকা সময়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিম নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। সেই প্রভাবেই ভবনটি দীর্ঘদিন দখলে রাখা সম্ভব হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাবেক মেয়র পলাতক হন এবং তার ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এরপরই ভবনটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসে।

এদিকে সম্প্রতি ভবনটি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সেখানে সরেজমিনে পরিদর্শনে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিডিএর অর্থরাইজড অফিসার প্রকৌশলী তানজির বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে লোক পাঠানো হয়েছিল। পরিদর্শনকালে কেউই ভবনের কোনো অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজ দেখাতে পারেননি। ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় আগে কখনো অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ ওঠার পরও বহুতল এই ভবনের বিষয়ে সিডিএ এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। পরিদর্শন করা হলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, অবৈধ এই বিল্ডিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি কি রাজনৈতিক কারণে ধীরগতি, নাকি সিডিএর পুরনো ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা।

এ বিষয়ে সিডিএর মাঠ কর্মকর্তা বিধান বড়ুয়া বলেন, কিছুদিন আগে সিডিএ থেকে হারুনুর রশীদ ভবন পরিদর্শনে গিয়ে কোনো ধরনের কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। মালিকপক্ষ জানায়, কাগজপত্র নাকি পুড়ে গেছে। তবে তারা সিডিএর অনুমোদিত নকশা বা মালিকানার কোনো কপিই দেখাতে পারেনি।

সিডিএ বোর্ড সদস্য জাহিদুল করিম কচি বলেন, ভবনটির মালিক যেই হোন, অনুমোদন ছাড়া কোনো বহুতল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, আগামী বোর্ড মিটিংয়ে এই বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

৬ষ্ঠ শ্রেণির মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে অনলাইন রেজিস্ট্…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
নারীদের বিবস্ত্রের ঘোষণা ও হিজাব খুলে নেওয়ার প্রতিবাদে শিবি…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
যে কারণে প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ালেন অরিজিৎ সিং, জানালেন তা…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
চাকরি না হওয়া বেকারদের ভিন্নভাবে কাজে লাগানোর সুখবর তাসনিম …
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
একই আসনের বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
নওগাঁয় পলিটেকনিক ছাত্রকে কুপিয়ে জখম
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
diuimage