সড়ক সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন © টিডিসি
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পাড়াদুর্গাপুর গ্রামে গ্রামবাসীর নিজস্ব তহবিল ও উদ্যোগে ৬টি রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাজের মাধ্যমে গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং বর্ষাকালে চলাচলের সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাস্তার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শাহাদত হোসেনসহ গ্রামবাসী ও এলাকার গণ্যমান্য মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম পাড়াদুর্গাপুর। ৯ শতাধিক মানুষের বসবাস এই গ্রামটিতে শিক্ষা ও চাকরিজীবীর সংখ্যাও কম নয়। এ ছাড়া আশপাশের ৭-৮টি গ্রামের মানুষের চলাচলে জমে উঠে সকাল বাজার। কিন্তু এই গ্রামে যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই নাজুক। বর্ষাকালে এ বাড়ি ও বাড়ি যাতায়াত করাই দুরুহ হয়ে পড়ে।
গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে গত ১২ জানুয়ারি গ্রামের মানুষ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন পাড়াদুর্গাপুর গ্রামের মসজিদ থেকে বলাইশিমুল গ্রাম পর্যন্তসহ গ্রামের ছোট বড় ৬টি রাস্তার ৩ কিমি ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুরাতন ছোট রাস্তাগুলোকে বৃদ্ধি করে অটোরিকশা চরাচলের উপযোগী করণ কার্যক্রম শুরু করবেন। এতে গ্রামবাসীর ৫-৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে তারা ধারণা করেন।
এ ব্যাপারে পাড়াদুর্গাপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যাক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য আ. ছোবহান, এখলাছ উদ্দিন, আব্দুর রহমান, মুমিনুল হক, তাওহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিল মিয়া, আব্দুল আজিজসহ গ্রামবাসী বলেন, ‘আমরা খুবই অবহেলিত। এই গ্রামে উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি। চলাচলে তেমন কোনো রাস্তাঘাট না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে, কৃষিকাজের ন্যায্যমূল্য পাই না। কেউ অসুস্থ হলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ থেকে উত্তোরণের জন্য আমাদের গ্রামের কৃতী সন্তান, মানবাধিকারকর্মী ও সংগঠক আবুল কালাম আল আজাদ আমাদের ডেকে নিয়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাস্তা নিজেদের অর্থায়নে মাটি কেটে মেরামত করার উদ্যোগ নেন। আমরা গ্রাম থেকে হাড়ি (চাঁদা) তুলে খরচ নির্বাহ করছি। আজ সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে দেখে খুবই আনন্দিত আমরা।’
আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, ‘আমাদের পাড়াদুর্গাপুর গ্রামটি অনেকটাই পশ্চাদপদ। যাতায়াতের অসুবিধায় এখানের মানুষ সারা বছরই কষ্ট করেন। বর্ষাকালের অবস্থা অবর্ণনীয়। তাই নিজেরাই উদ্যোগ নিলাম ৫-৬টি রাস্তার ৩ কিমি মাটির কাজ করেতে। এই কাজের জন্য ১১টি রিং ও ৩টি ইউড্রেন লাগবে। সেগুলো যেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পেতে পারি, সেই দাবি রাখছি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক শাহাদত হোসেনের কাছে।’
এ ব্যাপারে বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহাদত হোসোন বলেন, ‘রাস্তার জন্য পাড়াদুর্গাপুর গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আমি তাদের মহতি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে। রিং ও ইউড্রেনের জন্য গ্রামবাসীর এই দাবি খুবই সামান্য। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব তাদের পাশে থেকে সহায়তা করতে।’