ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতার বাগবিতণ্ডা © সংগৃহীত
বগুড়ায় ট্রাফিক পুলিশের সাথে মারমুখী আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করায় নাজিউর রহমান নাজির নামে এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে দলের প্রাথমিক পদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অব্যাহতি পাওয়া নাজিউর রহমান নাজির শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক। অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মাশফিকুর রহমান মামুন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়েন নাজিউর রহমান নাজির। তিনি সিগন্যাল উপেক্ষা করে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সহকারী টাউন উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জয়নাল আবেদীন তার রিকশা আটকে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজিউর রহমান নাজির রিকশা থেকে নেমে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য জয়নাল আবেদীনের ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারমুখী আচরণ করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অসংখ্য মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতেই ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হন।
পরবর্তীতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপি নেতা নাজিউর রহমান নাজির শাজাহানপুর উপজেলায় সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, মেয়েকে নিয়ে কোচিং যাওয়ার পথে যানজটে আটকা পড়ি। এ সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে অনুরোধ করি রিকশাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এতে ট্রাফিক পুলিশের সদস্য জয়নাল আমার মেয়ের সামনে আমাকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষা প্রয়োগ করেন। এতে মেয়ের সামনে নিজেকে অপমানিত বোধ করি এবং উত্তেজিত হয়ে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করি। তবে এটি মোটেও ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী টাউন উপপরিদর্শক ( এটিএসআই) জয়নাল আবেদীন বলেন, তার সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনাস্থলে অসংখ্য মানুষ দেখেছেন। আমরা তিনজন ট্রাফিক দায়িত্ব পালন করছিলাম। আমরা শান্ত ছিলাম। স্থানীয় লোকজন ভিডিও করেছেন এবং তারাই তাকে নিবৃত্ত করেছেন।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আতোয়ার রহমান বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার পরপরই ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করি।