© সংগৃহীত
২০১৮ সালের ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্রিলিমিনারি এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন প্রায় ৩৮০০০ পরীক্ষার্থী। ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে ১৩৭৫০ জন নির্বাচিত হন চূড়ান্ত ভাইভা পরীক্ষার জন্য। অক্টোবরের ১০ তারিখ শুরু হওয়া এ ভাইভা দীর্ঘ পরিক্রমা পাড়ি দিয়ে ইতি টানে এ বছরের মার্চের ৭ তারিখ। ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ফলাফলে ৪৫৪২ জন এমবিবিএস এবং ২৫০ জন বিডিএস ডাক্তার সুপারিশপ্রাপ্ত হন। বাকি ৮৩৬০ জন প্রার্থীকে বাছাই করা হয় নন ক্যাডার পোস্টের বিপরীতে। তাদের পাঠানো মেসেজটি ছিলঃ Congratulations! Reg. No: 000000, of 39th (Special) BCS Exams. You are provisionally: ELIGIBLE FOR NON CADRE. For details visit BPSC website [www.bpsc.gov.bd]. Regards: Controller of Examinations (Cadre) BPSC.
এদিকে ৫ মে থেকে এই ৮৩৬০ জন বাছাইকৃত ডাক্তারদের নিয়োগের জন্য পালিত হতে থাকে বিভিন্ন কর্মসূচি। কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রেসক্লাবে অবস্থান, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি, ৬৪ জেলায় ভ্রমণ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত যোগাযোগ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ, বিএমএ, স্বাচিপসহ ডাক্তারদের কল্যাণে নিয়োজিত বিভিন্ন সংগঠনের সাথে আলোচনা ইত্যাদি। সর্বশেষ গত ৯ ডিসেম্বর ডাক্তারদের একটি প্রতিনিধিদল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন, যার শিরোনাম ছিল, “৩৯ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অথচ সুপারিশবিহীন ৮৩৬০ চিকিৎসকবৃন্দের পক্ষ হতে প্রতিনিধিদলের প্রতিবেদন”। বিশাল জনগোষ্ঠীর বিপরীতে তাদের নিয়োগের আবেদন জানানোই ছিল এ প্রতিবেদরনর মূল লক্ষ্য।
.jpg?1576983004579)
পৃথিবীর বুকে ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট একটি দেশের নাম বাংলাদেশ। আয়তনে ছোট হলেও ১৬ কোটি জনগণের বসবাস এখানে। দুঃখের বিষয় হল, প্রতি ১৮৯৭ জন মানুষের বিপরীতে এখানে চিকিৎসক মাত্র ১ জন। আর হিসেবটা যদি হয় সরকারি, তবে অবস্থা আরো নাজুক। অনুপাতের হিসেবটা তখন গিয়ে ঠেকে ৬৫৭৯ : ১। মানে প্রতি ৬ হাজার ৫৭৯ জানে একজন সরকারি চিকিৎসক রয়েছেন। একারণে চিকিৎসা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।
এ বিষয়ে ডা. রাফা বিনতে নূর বলেন, ‘৩৯ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অথচ সুপারিশবিহীন ৮৩৬০ চিকিৎসকবৃন্দের ভাগ্য নির্ভর করছে এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের উপর। তার সদয় হস্তক্ষেপে এসকল উত্তীর্ণ ডাক্তারদের একদিকে যেমন গতি হবে, ঠিক তেমনি সরকারি ডাক্তারের সংকটও নিরসন হবে অনেকটাই।‘
সম্প্রতি ৩৯ স্পেশাল বিসিএসে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেন প্রায় ৪৫০০ জন এমবিবিএস এবং ২৫০ জন বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক। আপাত দৃষ্টিতে খুশির সংবাদ হলেও এখানে রয়েছে অনেকটা শুভংকরের ফাঁকি। কারণ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল ১০০০০ চিকিৎসক নিয়োগের কথা। কিন্তু ২০১৯ সালে অর্ধেক চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে।