সিরাজুল ইসলাম
অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা মননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে, যিনি বিপুল গণরায় নিয়ে টানা চতুর্থবারের মত বাংলাদেশের মসনদে আসীন হয়ে জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ পেয়েছেন। অভিনন্দন নবগঠিত সরকারের সকল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সাংসদের যারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক হিসাবে প্রমাণের সুযোগ পেয়েছেন তাদেরকে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, মানবতাবাদী নেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করায়, বাংলাদেশের সকল শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামীলীগের জন্য এক ঐতিহাসিক বিজয়। এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এককভাবে ২৫৯টি আসনে জয়লাভ করে প্রমাণ করে দিয়েছেন, তারা জনগণের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে, উন্নয়নের পক্ষে, কিন্তু সন্ত্রাস ও দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার বিপক্ষে। যে সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের পক্ষেই এই গণরায় এসেছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিগত শাসনামলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে যে বিপ্লব সাধিত হয়েছে তা বাংলাদেশের জনগণকে ব্যাপকভাবে আলোড়িত করেছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। একযোগে ২৯৬টি কলেজ, ১৭৩টি স্কুল সরকারিকরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিপূর্বে কোন সরকার এই সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
বিনামূল্যে বই বিতরণ, দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে অধ্যয়ন, শিক্ষা উপবৃত্তি ইত্যাদির সুফল ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব রেখেছে এতে কোন সন্দেহ নেই। সদ্য সরকারিকৃত স্কুল কলেজের শিক্ষকদের একটি বড় অংশ জাতীয় নির্বাচনে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই নতুন সরকারের কাছে শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা জানি সরকারিকরণ একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, তবে সরকার চাইলে অতি অল্প সময়ে আত্তীকরণের কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একসাথে সরকারিকরণের কারণে শিক্ষক কর্মচারীদের আত্তীকরণের কাজটি ঝুলে রয়েছে।
ফলে পাঠদানসহ অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সরকারিকরণের কারণে এই সকল স্কুল কলেজে দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে প্রবীণ শিক্ষকরা অবসরে যাচ্ছেন, অনেকের মৃত্যু হয়েছে। এই সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছ। সুষ্ঠু পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া এই সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেসরকারি আমলের বেতন ও পরীক্ষার ফি প্রদান করতে হচ্ছে। ফলে অভিভাবক মহলে সমালোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যে সকল শিক্ষক অতিকষ্টে শ্রেণী কক্ষে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন, তারাও আত্তীকরণ বা এডহক নিয়োগ না হওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে প্রহর গুনছেন। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশর সদ্য সরকারিকৃত সকল শিক্ষক সমাজের প্রাণের দাবী দ্রুত আত্তীকরণের মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে গতি সঞ্চার হয়েছে তা অব্যাহত রাখা। তাই আমাদের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।
লেখক: প্রভাষক, ইতিহাস বিভাগ, শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজ, গাজীপুর