দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে অক্সিজেন সংকট, একরাতেই মারা গেল সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ

২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:১১ PM
সোনামুখো বিলে মাছের মড়ক

সোনামুখো বিলে মাছের মড়ক © টিডিসি সম্পাদিত

বেনাপোলের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার সোনামুখো বিলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে অক্সিজেন সংকট তৈরি হয়ে আনুমানিক সাড়ে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের মাছ মারা যাওয়ার দাবি করেছেন ঘের মালিকরা। গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত থেকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের সজনের ঘেরে মাছের আকস্মিক মড়ক শুরু হয়। পরদিন সকালেই বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে।

ঘের মালিকদের দাবি, দিনে-রাতে ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে আধুনিক পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। এ ঘটনার পর শার্শার অন্যান্য এলাকার মৎস্যচাষিদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোনামুখো বিলের ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরটির মালিক এ এফ মৎস্য খামার। আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। খামার মালিকদের হিসাবে, ২০০ বিঘা আয়তনের ঘেরে ৬০ লাখ পিস পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। প্রতি ১৫টি পাবদা মাছে প্রায় এক কেজি হিসেবে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার মণ। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ মাছের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে মাছগুলোর মোট বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা।

ইতোমধ্যে মাছগুলো বাজারজাতের পাশাপাশি ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছেন খামার সংশ্লিষ্টরা।

খামার মালিক আলফাজুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। পরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মাছের খাদ্য বাবদ বাকিতে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালামাল নিয়েছি। এই ঋণ কীভাবে শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

অন্য খামারি ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে  বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছি। হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। এই খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০ পরিবার নির্ভরশীল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায় এবং পচতে শুরু করে।’

আরও দেখুন: জাপান–আইএমএফ স্কলারশিপে মাস্টার্সে সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তারা

রপ্তানি প্রক্রিয়াও ব্যাহত
খামার সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান, এ খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে এই মাছ চাষ শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণেই ভূমিকা রাখে না, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও অবদান রাখে।

তাদের অভিযোগ, মাছের মড়ক শুরু হওয়ার পর থেকে শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর বা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেননি। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় মৎস্যচাষিরাও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মনজুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সারা দেশে লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দিন দিন উন্নতি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাসে প্রতিদিন লাখ টাকার সিগারেট বিক্রি
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রোটিনের জন্য সেরা কোন ডাল, প্রতিদিন খাবেন কোনটি?
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
মতিঝিল আইডিয়ালের ৪৩ শিক্ষককে একযোগে বদলি
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
জয়সওয়ালকে ‘বাঁচিয়ে দিল’ জয় শাহের আইসিসি?
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
ফিনিস মন্ডিয়াল ফাউন্ডেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬