স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর © টিডিসি সম্পাদিত
মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। একযোগে সারাদেশে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৩ নভেম্বর।
গত ১৯ অক্টোবর এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম উভয় বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। পরদিন একই সময় পর্যন্ত ফি জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৯ ও ১০ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। আর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৩ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পর্যন্ত।
এতে আরও জানানো হয়, ভর্তিচ্ছু প্রার্থীরা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে অনলাইনে (http://dgme.teletalk.com.bd) আবেদন দাখিল করবেন। একজন প্রার্থী যে কোনো একটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি পরীক্ষার ফি ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অফেরতযোগ্য এবং প্রি-পেইড টেলিটকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
কয়টি প্রতিষ্ঠান, আসন কত
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ বছর মোট ২৩টি আইএইচটি এবং ৭টি ম্যাটসে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। এর মধ্যে আইএইচটিতে মোট আসন রয়েছে ৩ হাজার ৬১৯টি। আর ম্যাটসে ৬৬৪টি।
ম্যাটসের মধ্যে বাগেরহাটে ১৫২, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ১০২ করে এবং কুমিল্লা ও ফরিদপুরে ৫২টি করে আসন আছে। আইএইচটিগুলোর আসন সংখ্যা হলো— ঢাকায় ৩২৭, রাজশাহীতে ২৭৭, বগুড়ায় ৩০৭, চট্টগ্রামে ২৭৭, বরিশালে ২৭৭, রংপুরে ২৭৭, ঝিনাইদহে ২৭৭, সিলেটে ২৫৭, সিরাজগঞ্জে ১০৩, সাতক্ষীরায় ১০৩, জামালপুরে ২০৬, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১০৩, গাজীপুরে ১০৩, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ১০৩, জয়পুরহাটে ১০৩, মাদারীপুরে ১৫৫, মানিকগঞ্জে ৫২, মুন্সিগঞ্জে ৫২, নোয়াখালীতে ৫২, নওগাঁয় ৫২, কুড়িগ্রামে ৫২, ময়মনসিংহে ৫২ এবং মাদারীপুরের শিবচরে ৫২টি।
সংরক্ষিত আসন ও বিভাগীয় প্রার্থী সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে বলা হয়েছে যে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতীয় প্রার্থীদের জন্য মোট আসনের ১% আসন সংরক্ষিত থাকবে। আইএইচটিসমূহে ভর্তির ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতীয় প্রার্থীদের জন্য ১% আসন সংরক্ষণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুষদের আসন সংখ্যার ভিত্তিতে কোনো অনুষদে ১ (এক) জনের অধিক প্রার্থী বিবেচিত হবেন না এবং ম্যাটসসমূহের ভর্তির ক্ষেত্রেও ১% আসন সংরক্ষণ করা হবে। উপজাতীয় প্রার্থীদের অন্যান্য সাধারণ প্রার্থীর মতো একই শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ একই সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার দিন কার্যকর সরকারের সর্বশেষ বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে এবং কোনো সংরক্ষিত আসনে উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে সাধারণ মেধাক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
অন্যদিকে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে, আইএইচটি কোর্সের সকল অনুষদে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরতরা বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করতে পারবেন এবং তাদের জন্য ১০% আসন সংরক্ষিত থাকবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের অন্যান্য সাধারণ প্রার্থীর ন্যায় একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে ও ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তাদের কোনো প্রকার ভাতা প্রদান করা হবে না। বিভাগীয় প্রার্থীর বয়স ৪০ (চল্লিশ) বছরের বেশি হলে তা আবেদনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে, অর্থাৎ বিভাগীয় প্রার্থীদের বয়স ০৬/১১/২০২৬ খ্রি. তারিখে ৪০ (চল্লিশ) বছরের বেশি হলে আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। এছাড়া বিভাগীয় বা ডিপার্টমেন্টাল প্রার্থীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন অগ্রবর্তী করে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষা পাসের সত্যায়িত সনদপত্র, নম্বরপত্র, স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখপূর্বক নাগরিকত্বের সনদপত্র, সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ৪ (চার) কপি রঙিন সত্যায়িত ছবিসহ পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা), স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের দপ্তর (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পুরাতন ভবনের ২য় তলা) মেডিকেল এডুকেশন শাখায় জমা দিয়ে আগামী ০৩/১১/২০২৬ খ্রি. তারিখের মধ্যে আইডি সংগ্রহপূর্বক অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন এবং আইডি ছাড়া ডিপার্টমেন্টাল প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।
বেসরকারি ম্যাটস-আইএইচটিতে ভর্তি
অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেধাক্রম অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট উত্তীর্ণ প্রার্থীরা তাদের স্ব স্ব পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন দাখিলকারী শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম অনুসারে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি ভর্তির অনুমোদন প্রদান করবে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫% আসন মেধারী ও অসচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এরূপ আসনের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বেতন-ভাতাদি ও সেশন চার্জের অতিরিক্ত কোনো প্রকার ফি গ্রহণ করতে পারবে না। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্য হতে মেধাবী ও অসচ্ছল কোটায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ কর্তৃক নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ অনুমোদিত মেধাবী ও অসচ্ছল কমিটি সভায় যাছাই বাছাইয়ের মাধ্যমে মেধাবী ও অসচ্ছল কোটার শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
সরকারি আইএইচটি ও ম্যাটসে ভর্তির নির্ধারিত সময় শেষে আসন ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে পূর্বে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে পছন্দের ক্রম ও মেধাক্রম অনুযায়ী সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের (সর্বোচ্চ তিনবার) সুযোগ দেওয়া হবে। প্রতিবার মাইগ্রেশন শেষে শূন্য আসনগুলো অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী পূরণ করা হবে এবং নির্বাচিত প্রার্থী নির্দিষ্ট সময়ে ভর্তি না হলে তা অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পূরণ করা হবে। তবে তৃতীয় দফা মাইগ্রেশনের পর ভর্তি বাতিল বা ভর্তি না হওয়ার কারণে আসন ফাঁকা হলেও অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য আর কোনো মাইগ্রেশন করা যাবে না। চূড়ান্তভাবে ভর্তি সম্পন্নের পর কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই ভর্তিকৃত সরকারি বা বেসরকারি আইএইচটি ও ম্যাটস থেকে অন্য কোথাও মাইগ্রেশন করা যাবে না এবং মাইগ্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ অনুমোদিত কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি কোর্সে ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী ৯ মাস হাসপাতালে সংযুক্তিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল/ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল/ইনস্টিটিউট/ বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সম্পন্ন হবে। এছাড়া ম্যাটসের শিক্ষার্থীদের কোর্স শেষে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ অনুমোদিত লগবুক অনুযায়ী নিকটস্থ জেলা সদর হাসপাতাল অথবা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট যে কোনো হাসপাতালে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।
ভর্তির যোগ্যতা ও আবেদন যেভাবে
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ৪ শিক্ষাবর্ষের যেকোনো এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অর্থাৎ ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন। একই সাথে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। একই সাথে জীববিজ্ঞান বিষয়ে অবশ্যই ন্যূনতম জিপিএ ২.০০ থাকতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ ৫-এর গুণিতক দ্বিগুণ হিসেবে ১০ নম্বর এবং ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের যোগফল থেকে জাতীয় মেধা অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এসএসসি সিলেবাস অনুযায়ী এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরে ১ ঘন্টার পরীক্ষা (বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫, গণিত ১৫, পদার্থ ১৫, রসায়ন ১৫, জীববিজ্ঞান ১৫, সাধারণ জ্ঞান ১০) গ্রহণ করা হবে। পাশ নম্বর ৪০ নির্ধারিত থাকবে।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। একজন প্রার্থী কেবল আইএইচটি অথবা ম্যাটসের যে কোনো একটিটি কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে অনলাইন আবেদনের ড্রপ ডাউন বক্স থেকে আইএইচটি অথবা ম্যাটস কোর্সের যে কোনো একটি সিলেক্ট করতে হবে। আইএইচটি কোর্স সিলেক্ট করলে প্রার্থী ম্যাটস কোর্সের জন্য বিবেচিত হবেন না। একইভাবে ম্যাটস কোর্স সিলেক্ট করলে প্রার্থী আইএইচটির জন্য বিবেচিত হবেন না।
আইএইচটির ক্ষেত্রে অনুষদসহ প্রতিষ্ঠানের নাম সিলেক্ট করতে হবে। প্রার্থীকে আবশ্যিকভাবে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের পছন্দের ক্রম উল্লেখ করতে হবে। ম্যাটসের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে আবশ্যিকভাবে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের পছন্দের ক্রম উল্লেখ করতে হবে।
আবেদনকারীরা যেকোনো ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহার করে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্ধারিত ওয়েব পোর্টাল (http://dgme.teletalk.com.bd)এ লগইন করার পর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘Admission for IHT & MATS’ এর অনলাইন আবেদন ফরম দেখতে পাবেন এবং অনলাইন আবেদনের বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইন ফরম পূরণের নিয়মাবলি ও ভর্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বিজ্ঞাপনের অংশে পাওয়া যাবে, যা আবেদনকারীকে ভালোভাবে পড়ে ও বুঝে নির্দেশনানুযায়ী সতর্কতার সাথে পূরণ করতে হবে। এরপর ‘Application Form’ অংশে ক্লিক করলে ‘Available Programs’ অপশনে ডিপ্লোমা কোর্স ইন ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি এবং ডিপ্লোমা কোর্স ইন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল প্রোগ্রাম দুটি দেখা যাবে, যার যেকোনো একটি প্রার্থীকে সিলেক্ট করে ‘Next’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। একজন প্রার্থী কেবল আইএইচটি অথবা ম্যাটসের যেকোনো একটি কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং অনলাইন আবেদনের সময় ড্রপডাউন বক্স থেকে যেকোনো একটি সিলেক্ট করতে হবে; কারণ আইএইচটি সিলেক্ট করলে প্রার্থী ম্যাটসের জন্য এবং ম্যাটস সিলেক্ট করলে আইএইচটির জন্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া আইএইচটি বা ম্যাটস উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রার্থীকে আবশ্যিকভাবে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের পছন্দের ক্রম বা চয়েস উল্লেখ করতে হবে।
ক্লিক করার পর কারিকুলাম সিলেকশন পেজটি ওপেন হবে এবং এখানে দুটি অপশন থাকবে যার প্রথমটি এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য এবং দ্বিতীয়টি ‘ও’ লেভেল বা সমমান পরীক্ষায় পাস করে কিংবা ডিপার্টমেন্টাল প্রার্থী হিসেবে ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়া প্রার্থীদের জন্য। দ্বিতীয় ধরনের প্রার্থীদের অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের পূর্বে পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা), স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এর দপ্তর থেকে Equivalence Certificate ID বা Departmental ID সংগ্রহ করতে হবে কারণ এই আইডি ছাড়া অনলাইন ফরম পূরণ করা যাবে না। এছাড়া প্রার্থীদের এই পেজে National (SSC/Equivalent) অথবা GCE (O Level Equivalent) এর যেকোনো একটি অপশন সিলেক্ট করতে হবে।
যে সকল প্রার্থী ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রথমে ‘National Curriculum/ SSC/Equivalent’ অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। এরপর প্রার্থীর পরীক্ষা বোর্ড, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পাসের বছর সিলেক্ট করে ‘Next’ অপশনে ক্লিক করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থীর মৌলিক তথ্য যেমন—নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, জাতীয়তা ও লিঙ্গ প্রদর্শিত হবে। এই ধাপে প্রার্থীকে বাংলায় নিজের নাম, পিতা ও মাতার নাম, মোবাইল নম্বর, কনফার্ম মোবাইল নম্বর, ইমেইল, ধর্ম, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্টের নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা এবং কোটা সিলেক্ট করতে হবে। এখানে ১১ ডিজিটের মোবাইল নম্বরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভর্তির সব তথ্য ও পরীক্ষার কেন্দ্রের নাম এই নম্বরেই আসবে এবং প্রক্রিয়া চলাকালীন নম্বরটি সচল রাখতে হবে। কোটার ক্ষেত্রে ট্রাইবাল বা নট অ্যাপ্লিকেবল অপশন থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।
এরপর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করার পর নিচের অংশে প্রার্থীর এসএসসির তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখা যাবে এবং তারপর প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম বা চয়েস দিতে হবে। যারা আইএইচটিতে ভর্তির জন্য আবেদন করছেন তারা আইএইচটিসমূহের বিষয় ও ইনস্টিটিউট দেখতে পাবেন এবং পছন্দ অনুযায়ী কোড বা নাম ক্রমানুসারে সিলেক্ট করতে হবে, যেখানে সব প্রতিষ্ঠান সিলেক্ট করা বাধ্যতামূলক। একইভাবে যারা ম্যাটসে আবেদন করবেন তাদের ম্যাটসগুলোর নাম ক্রমানুসারে সিলেক্ট করতে হবে এবং সকল প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা আবশ্যক। এখানে বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, একজন প্রার্থী আইএইচটি অথবা ম্যাটস—এর যেকোনো একটি কোর্সের জন্যই কেবল আবেদন করতে পারবেন এবং একটি সিলেক্ট করলে অন্যটির জন্য বিবেচিত হবেন না, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের পছন্দের ক্রম উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
প্রতিষ্ঠান পছন্দের পর ড্রপডাউন বক্স থেকে পরীক্ষার কেন্দ্র (Exam Center) নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘Other Qualification’ ঘরে গিয়ে জীববিজ্ঞান বিষয়ের তথ্য প্রদান করতে হবে এবং ‘Verification Code’ ঘরে নির্দিষ্ট কোড বসাতে হবে। এরপর পাতার নিচের অংশে ‘Declaration’ বটন এবং ‘Submit’ বোতামে ক্লিক করতে হবে। সাবমিট করার পর ‘Application preview’ দেখা যাবে, যেখানে কোনো ভুল থাকলে ‘Change Needed? Click here to Edit the Application’ লাইনে ক্লিক করে সংশোধন করা যাবে এবং পুনরায় ডিক্লারেশন দিয়ে সাবমিট করতে হবে। এরপর নির্ধারিত মাপে (৩০০×৩০০ পিক্সেল ছবি এবং ৩০০×৮০ পিক্সেল স্বাক্ষর) ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। পরিশেষে আবার ডিক্লারেশন দিয়ে সাবমিট করার পর একটি ইউজার আইডি সম্বলিত অ্যাপ্লিকেশন কপি আসবে, যার মাধ্যমে টেলিটক প্রিপেইড সিম থেকে ৮০০ টাকা জমা দিতে হবে এবং টাকা জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত পাসওয়ার্ড ও ইউজার আইডি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
যে সকল প্রার্থী ‘ও’ লেভেল বা সমমান পরীক্ষায় পাস করেছেন এবং ডিপার্টমেন্টাল প্রার্থী হিসেবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তাদের অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের জন্য প্রথমে ‘GEC (O/Equivalent Level)/ Departmental Candidate’ প্রার্থীর কারিকুলাম সিলেকশন পেজে গিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত আইডি এবং অধিদপ্তরে প্রদানকৃত মোবাইল নম্বর টাইপ করে ‘Next’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ‘Application Form’ এর বেসিক ইনফরমেশন অংশে প্রার্থীর নাম ও জাতীয়তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে থাকবে এবং সেখানে বাংলা ও ইংরেজিতে পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ লেখার পাশাপাশি ধর্ম, লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্টের নম্বর, ১১ ডিজিটের মোবাইল নম্বর, ইমেইল এবং কোটার তথ্য পূরণ করতে হবে।
এরপর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করার পর ‘GEC (O/Equivalent Level)’ বা শিক্ষাগত যোগ্যতা অংশে পরীক্ষার নাম, রোল নম্বর, গ্রুপ বা বিষয়, ইনস্টিটিউট বা বোর্ড, ফলাফল এবং পাসের সাল এন্ট্রি করতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম উল্লেখ করতে হবে, যেখানে আইএইচটিতে আবেদনকারীরা আইএইচটিসমূহের বিষয় ও ইনস্টিটিউট এবং ম্যাটসে আবেদনকারীরা ম্যাটসগুলোর নাম পছন্দ অনুযায়ী ক্রমানুসারে সিলেক্ট করবেন এবং সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে মনে রাখতে হবে যে, একজন প্রার্থী কেবল আইএইচটি অথবা ম্যাটসের যেকোনো একটি কোর্সে আবেদন করতে পারবেন এবং একটি সিলেক্ট করলে অন্যটির জন্য বিবেচিত হবেন না।
প্রতিষ্ঠান পছন্দ করার পর ড্রপডাউন বক্স থেকে পরীক্ষার কেন্দ্র নির্বাচন করতে হবে এবং ‘Other Qualification’ ঘরে গিয়ে জীববিজ্ঞান বিষয়ের তথ্য এবং নির্দিষ্ট ‘Verification Code’ বসাতে হবে। এরপর ডিক্লারেশন বটন ও সাবমিট বাটনে ক্লিক করার পর 'Application preview' দেখা যাবে, যেখানে কোনো ভুল থাকলে ‘Change Needed? Click here to Edit the Application’ লাইনে ক্লিক করে তা সংশোধন করা যাবে। এরপর নির্ধারিত মাপে (৩০০×৩০০ পিক্সেল ছবি এবং ৩০০×৮০ পিক্সেল স্বাক্ষর) ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। পরিশেষে পুনরায় ডিক্লারেশন দিয়ে সাবমিট করার পর প্রাপ্ত ইউজার আইডি সম্বলিত অ্যাপ্লিকেশন কপির মাধ্যমে টেলিটক প্রিপেইড সিম থেকে ৮০০ টাকা ফি জমা দিতে হবে এবং পরবর্তীতে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডের জন্য প্রাপ্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সযত্নে সংরক্ষণ করতে হবে।
ফি জমা দেওয়ার পদ্ধতি অনুযায়ী, টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে IHTM লিখে, স্পেস দিয়ে User Id লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস প্রেরণ করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ: ‘IHTM <Space> FRLGCT’ লিখে Send করতে হবে 16222 নম্বরে, যেখানে FRLGCT হলো ফরম পূরণ করে পাওয়া User ID। এরপর ফিরতি SMS-এ একটি PIN, প্রার্থীর নাম এবং পরীক্ষার ফি বাবদ ৮০০/- (আটশত) টাকা কেটে রাখার তথ্য দিয়ে সম্মতি চাওয়া হবে। এই সম্মতি দেওয়ার জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে আবার IHTM লিখে, স্পেস দিয়ে YES লিখে, স্পেস দিয়ে প্রাপ্ত PIN লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ: ‘IHTM <Space> YES <Space> 456789’ টাইপ করে Send করতে হবে 16222 নম্বরে। PIN নম্বরটি সঠিকভাবে লেখা হলে প্রিপেইড মোবাইল থেকে ফি বাবদ ৮০০ টাকা কেটে রাখা হবে এবং ফিরতি এসএমএস-এ User Id ও Password দেওয়া হবে, যা দিয়ে পরবর্তীতে প্রবেশপত্র বা অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে হবে।
ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণের পূর্বে প্রার্থীর নিজের কাছে যেসকল তথ্য ও উপকরণ প্রস্তুত রাখতে হবে, সেগুলো হলো— ছবি ও স্বাক্ষর সংক্রান্ত প্রস্তুতি হিসেবে ৩০০×৩০০ পিক্সেল মাপের এবং সর্বোচ্চ ১০০ কেবি সাইজের নিজের একটি রঙিন ছবি (JPG ফরম্যাট) স্ক্যান করে বা ডিজিটাল ক্যামেরায় তুলে প্রস্তুত রাখতে হবে। এছাড়া ৩০০×৮০ পিক্সেল মাপের স্ক্যান করা নিজের একটি স্বাক্ষর (JPG ফরম্যাট) প্রস্তুত রাখতে হবে, যা কাগজে গাড় করে স্বাক্ষর করে তারপর স্ক্যান করতে হবে। এই ছবি ও স্বাক্ষর যে কম্পিউটার থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা হবে অথবা পেনড্রাইভে আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। ইংরেজিতে নিজের জেলা, বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা (জেলা, থানা/উপজেলা, পোস্ট কোড ইত্যাদি) লিখিতভাবে নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।












