শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর সাইনবোর্ড গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী টি. এম. তাসনিম তাপস্বীকে এককালীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছে জেলা পরিষদ, শেরপুর। সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর আর্থিক সংকটে থাকা এই শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা সহায়তার অংশ হিসেবে এ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে ‘বাবা টিউশনি করেন, মা দর্জি— অভাব পেরিয়ে মেডিকেলে চান্স পাওয়া তাপস্বী ঘোর অন্ধকারে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তার পারিবারিক দুরবস্থা ও অর্থসংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে সামনে আসে। ওই প্রতিবেদনের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে সীমিত সহায়তা মিললেও মেডিকেল শিক্ষার পূর্ণ ব্যয় এখনো বহন করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবার জানিয়েছে।
তাপস্বী ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ৩ হাজার ৬৯২তম স্থান অর্জন করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। তবে ভর্তি ফি ও প্রাথমিক শিক্ষাব্যয়ের খরচ জোগাড় করা এখনো তার পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলা পরিষদ, শেরপুর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ বি এম মামুনুর রশিদ পলাশ তাপস্বীর হাতে ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায়সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তাপস্বীর বাবা মো. মোশরাফুল ইসলাম একজন অবসরপ্রাপ্ত এনজিও কর্মী। বর্তমানে তিনি টিউশনি করিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন। মা মৌতিয়া খানম আফরোজা সেলাইয়ের কাজ করে পরিবারের আয়ে সহায়তা করছেন। দুই সন্তানের মধ্যে তাপস্বী বড়।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ বি এম মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, তাপস্বীর মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পেরে জেলা পরিষদ গর্বিত। ভবিষ্যতেও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, আমরা আশা করি, তাপস্বী ভবিষ্যতে একজন দক্ষ চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবে এবং জেলার সম্মান বৃদ্ধি করবে।
এদিকে পরিবারটি জানিয়েছে, এককালীন এই সহায়তা কিছুটা স্বস্তি দিলেও মেডিকেল শিক্ষার দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় এখনো বড় দুশ্চিন্তার কারণ। ফলে আগের মতোই তাপস্বীর শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।