এইচএসসির ফলে বড় ধস

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ AM , আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধস নেমেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

গত ১০ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭২ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে। ২০১৮ সালে পাসের হার আরও কমে ৬৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ হয়। ২০১৯ সালে আবার বেড়ে ৭২ শতাংশে পৌঁছায়।

২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেন। ২০২১ সালেও পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫ সালে তা কমে ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে নেমে এসেছে।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও গত এক দশকে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। ২০১৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৭২৬ জন এবং ২০১৮ সালে ২৯ হাজার ২৬২ জন। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৮০৭ জনে।

২০২০ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাফে বেড়ে হয় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন। ২০২১ সালে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জনে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পান ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন। এরপর ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে ৯২ হাজার ৫৯৫ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে আবার বেড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন হলেও ২০২৫ সালে তা কমে ৬৯ হাজার ৯৭ জনে নেমে আসে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। ২০১৬ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৪২৩ জন। ২০১৭ সালে ১ হাজার ৮১৫ জন, ২০১৮ সালে ১ হাজার ২৫১ জন এবং ২০১৯ সালে ২ হাজার ২৪৩ জন জিপিএ-৫ পান। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৪৮ জন এবং ২০২১ সালে ৪ হাজার ৮৭২ জন।

২০২২ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪৫৭ জনে। ২০২৩ সালে তা কমে ৭ হাজার ৯৭ জন এবং ২০২৪ সালে বেড়ে ৯ হাজার ৬১৩ জন হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ২৬৮ জন। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩৪৫ জন।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৫২ হাজার ১১ জন এবং ছাত্রী ৪০ হাজার ৮৯৪ জন। পরীক্ষায় প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছরের ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

এইচএসসিতে বিদেশ কেন্দ্রে পাস ৯০.৮৭ শতাংশ
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসিতে পাস করা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন: শ…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
নাঈমের ফিফটিতে লড়াইয়ের পুঁজি বাংলাদেশের, ক্যারিবীয়দের লক্ষ্…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে ঢাকা, তলানিতে বরিশাল—কো…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সিলেটে এইচএসসিতে এবার পাসের হার ৫০.৯০ শতাংশ
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
পাসের হারে এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ এ ছেলেদের থেকে পিছিয়ে মেয়েরা
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬